ওরা চার জন। মোশারফ, নান্নু, শফিক ও সিদ্দিক। দিনের আলোতে ওরা অতিসাধারণ সিএনজি অটোরিকশা চালক। কিন্তু রাতের রাজধানীর ওরা ত্রাস। রাতে অটোরিকশায় যাত্রী তুলে সব কিছু কেড়ে নেয়। প্রয়োজনে খুন করে। সর্বশেষ লকডাউনের মধ্যে গত ১৭ মার্চ এ চক্রের হাতে প্রাণ হারান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হারুন-অর-রশীদ। এর পরও তাদের তত্পরতা থামেনি। হারুন খুনের পর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এ চক্রকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ গত রবিবার গভীর রাতে এ গ্রুপকে কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভার এলাকায় আটক করতে সক্ষম হয়। তবে এ সময় নান্নু ও মোশারফ ডিবি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। গ্রেফতার হয় শফিক ও সিদ্দিক। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অকপটে স্বীকার করেছে তাদের অপরাধের কথা।
যেভাবে অভিযান
অভিযান পরিচালনাকারী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-কমিশনার (গুলশান বিভাগ) মশিউর রহমান বলেন, এ চক্রটির অপরাধের ক্ষেত্র ছিল নগরীর মহাখালী থেকে খিলখেত থানাধীন কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের আশেপাশের এলাকা এবং পূর্বাচলগামী ৩০০ ফিট রাস্তা। তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার রাত ১১টার দিকে ডিবি পুলিশ ৩০০ ফিট রাস্তাসহ খিলখেতের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেয়। রাত আড়াইটার দিকে একটি সিএনজি অটোরিকশা শেওড়া বাসস্ট্যান্ড দিয়ে খুব জোরে খিলখেত ফ্লাইওভারের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ থামতে বললে সিগন্যাল উপেক্ষা করে ফ্লাইওভারের ওপর চলে যায়। পুলিশ ধাওয়া দিলে ফ্লাইওভারের নিচে ময়লার ডিপোর পূর্ব দিকে এসে অটোরিকশাটি হার্ড ব্রেক করলে দুই জন দুর্বৃত্ত সিএনজি থেকে নেমে পাশের ডোবার দিকে যেতে থাকে। এ সময় তারা পুলিশের দিকে গুলি ছোড়ে। পুলিশ পালটা গুলি ছুড়লে দুই জনই আহত হয়। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে ভোর ৫টার দিকে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে শফিকুল ইসলাম ও সিদ্দিককে। জব্দ করে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, কাদামাখা একটি চাপাতি, একটি চাকু, এক কৌটা মলম, একটি প্যাঁচানো গামছা, দুটি মোবাইল ও একটি সিএনজি অটোরিকশা।
জিজ্ঞাসাবাদে যা বলল আটক দুই জন
গ্রেফতারকৃত অটোরিকশা চালক শফিক এবং সিদ্দিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, নিহত দুই জন নান্নু ও মোশারফ। নান্নু একসময় হলুদ ট্যাক্সি ক্যাব চালাত। ট্যাক্সিক্যাবের যাত্রীকে হত্যার দায়ে সে ছয় বছর জেলও খেটেছে। নিহত মোশাররফও একাধিক মামলায় সাজা ভোগ করেছে। শফিক ও সিদ্দিক ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হয়ে হাজত খেটেছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তা মশিউর রহমান আরো জানান, এই চার জন সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে নিয়মিত যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি সুযোগ বুঝে যাত্রীদের অণ্ডকোষ চেপে ধরে কিংবা চোখে মুখে মরিচের গুঁড়া ও মলম দিয়ে যাত্রীর কাছে থাকা টাকাপয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে তাকে রাস্তায় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিত। যাত্রী প্রতিরোধ করতে গেলে অনেক সময় গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করতেও কুণ্ঠা বোধ করত না। এভাবেই ‰iv MZ ১৭ জুন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হারুনকে আমতলী থেকে যাত্রীবেশে উঠিয়ে চোখে মলম লাগিয়ে সর্বস্ব লুটে নিয়ে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে হত্যা করে ৩০০ ফিট রাস্তায় ফেলে দেয়।