ত্রাণ নয় উপহার দিয়ে কাছে টানুন

অভিধান মতে ‘ত্রাণ’ শব্দের অর্থ সাহায্য করা বা বিপদ থেকে উদ্ধার করা। শাব্দিক অর্থ যাই হোক, প্রায়োগিক দিক বিবেচ্য। ত্রাণ শব্দটা শুনলে চোখে ভাসে অসহায় কিছু মুখ। বিপদে পড়া মানুষকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়া। আমাদের শব্দচয়ন অন্যের মন ও মননের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের মনে তো ফেলেই। একটা প্রাইমারি স্কুলে গিয়েছিলাম কিছু অসচ্ছল বাচ্চাকে শিক্ষা-উপকরণ দেওয়ার জন্য। শিক্ষকদের সহযোগিতায় ক্লাসের কয়েকজনকে বাছাই করে তাদের বইখাতা দিয়ে বাসায় ফিরেছি। স্কুল ছুটির পর আবির নামের একটি ছেলে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করল—আচ্ছা বাবা, আমার কিছু বন্ধুকে আজ কিছু ভাইয়া এসে বইখাতা দিল, আমাকে কেন দিল না? বাবার উত্তর, ওরা গরিব তাই ওদের দিয়েছে। ওরা আমাদের মতো না। পরদিন আবির প্রথম বেঞ্চে বসেছে। আগের দিন বইখাতা পাওয়া এক ছেলে ক্লাসে ঢুকে তার পাশের খালি জায়গায় কেবল বসবে; এমন সময় আবির বলল, আমার বেঞ্চে তোমাকে বসতে দেব না। তোমরা আমাদের মতো না, বাবা বলেছে।—দেখেছেন কোমলমতি বাচ্চাও শ্রেণিবৈষম্য শিখে গেল!

সমাজের প্রত্যেকটা নাগরিকের আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার আছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষগুলোর কথা আমাদের ভাবতে হবে। বিপদে পড়ে তারা সাহায্য গ্রহণ করছে। আমরা প্রচার করে বেড়ালাম অমুককে দুকেজি চাল ত্রাণ দিয়েছি। এটা বলে আমরা বুকভরা আত্মতৃপ্তি পেলাম। কিন্তু আমাদের এমন প্রচারে ঐসব মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে ছোটো করা হয়। প্রচারের প্রয়োজন হলে ত্রাণ না বলে ‘উপহার’ বলা যেতে পারে। কাছের মানুষকেই মানুষ উপহার দেয়। প্রত্যেকটা মানুষকে আমাদের কাছের মানুষ ভাবা উচিত।

তাই বলব—ত্রাণ দিয়ে মানুষকে দূরে ঠেলে দেবেন না। উপহার দিয়ে কাছে টানুন। তাহলে ‘তোমরা আমাদের মতো না’—কোমলমতি কোনো শিক্ষার্থী এমন কথা আর বলবে না।

শেখ শাকিল হোসেন

ছাত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়