করোনা ভাইরাসের আতঙ্ককে সঙ্গী করেই গত মার্চে মাঠে গড়িয়েছিল বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ। করোনা সংক্রমণ শুরু হলে এক রাউন্ড পরই বন্ধ হয়ে যায় প্রিমিয়ার লিগ। যা দেশের সিংহভাগ ক্রিকেটারের উপার্জনের মূল অবলম্বন। করোনার প্রাদুর্ভাবে গত চার মাস ধরে স্থগিত প্রিমিয়ার লিগ এবং ক্রিকেটাররা ঘরবন্দি। চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ আর মাঠে গড়ানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রিমিয়ার লিগ এই বছর আর আলোর মুখ দেখবে কিনা বলা কঠিন।
এদিকে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতিও ভালো নয়। প্রতিদিনই মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। ক্রিকেটারদের উপলব্ধি বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, আগামী এক মাসেও লিগ শুরুর সম্ভাবনা নেই। তাই আর্থিক দিক বিবেচনা করে প্রচলিত চুক্তি অনুযায়ী ক্লাবগুলোর কাছে ৫০ ভাগ পারিশ্রমিক চাইছেন ক্রিকেটাররা। কারণ অনেক ক্লাবের ক্রিকেটাররাই কোনো অর্থ পাননি এবার।
মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত কোয়াবের (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) মিটিং থেকে এমন অনুরোধ করেছেন ক্রিকেটাররা। বিসিবি ও লিগ নিয়ন্ত্রক সিসিডিএমকে (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস) ক্রিকেটাররা অনুরোধ করেছেন এই বিষয়ে ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে।
মঙ্গলবার রাতে কোয়াবের মিটিংয়ে জাতীয় দলের বিদেশ সফর, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে আলোচনা হয়। ক্রিকেটারদের চাওয়া পরিবেশ ভালো হলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই যেন ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করা হয়। জাতীয় দলের অনুশীলন ও সফর বিষয়ে বিসিবির সিদ্ধান্তেই আস্থা রাখছে কোয়াব। গতকাল সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পালের স্বাক্ষরিত কোয়াবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
কোয়াবের আয়োজনে ক্রিকেটারদের এই মিটিংয়ে হাজির হয়েছিলেন সিসিডিএমের চেয়ারম্যান ও বিসিবি পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ ও বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। দুজনই চলমান পরিস্থিতির আলোকে বিসিবির অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং ক্রিকেটারদের সব রকম সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। সবার অংশগ্রহণে সংকট উত্তরণে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন কোয়াব সভাপতি নাঈমুর রহমান দুর্জয়, সহসভাপতি খালেদ মাহমুদ সুজন ও ক্রিকেটারদের মধ্যে তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, আব্দুর রাজ্জাক, তুষার ইমরান, জহুরুল ইসলাম অমি, নাসির হোসেন, এনামুল হক জুনিয়র, শাহরিয়ার নাফীস, নুরুল হাসান সোহান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আফিফ হোসেন ধ্রুব ও নাঈম শেখ।