অনলাইনে ক্লাস :বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা যাবে কোথায়?

মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সবকিছু অচেনা হয়ে উঠেছে।  প্রতিদিন বিশ্ব জুড়েই লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে সংক্রমণের হার। আমাদের দেশেও প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ হার। প্রায় তিন মাসের অধিক সময় ধরে আমরা এই ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছি। ভাইরাসটির প্রভাব সামাজিক,  সাংস্কৃতিক,  অর্থনীতির পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর পড়ছে। শিক্ষার্থীদের সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষার জন্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যা একদিকে বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীদের সেশন জটের মতো চিন্তা তার সঙ্গে আবার রুটিন শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ার সংশয় তৈরি করেছে। ফলে এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-কার্যক্রম চালু রাখতে ইউজিসি অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়  অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শুরুর প্রস্তুতি শুরু করেছে আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে প্রশ্ন হলো বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলে শিক্ষার্থীরা যেভাবে ক্লাসে বসে ক্লাসে অংশগ্রহণ করত অনলাইনে ক্লাসে কি সব শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারছে বা পারবে? যদি না পারে তাহলে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা কি করবে। আমরা সবাই জানি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্কের দুর্বলতার কথা আমরা সবাই জানি। তার সঙ্গে কম গতির  ইন্টারনেট ব্যবস্থা। এক জন শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের জন্যে সকলেরই অনলাইনে ক্লাস করার উপযোগী ডিভাইস আছে এমন ভাবাটা বাতুলতা এবং এই করোনাকালীন দুর্যোগের সময়ে মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যখন তাদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন সেখানে ইন্টারনেটের খরচ বহন করা তাদের ওপরে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা অবস্থায় অনেক শিক্ষার্থী পার্টটাইম জব, টিউশনি করে নিজের খরচ বহন করে। অনেকে বাড়িতে টাকা পাঠায় কিন্তু করোনা ভাইরাসের ফলে এখন তাদের সেই পথও বন্ধ হয়ে অনিশ্চিত দিন পার করছে|  এমন একটা সময়ে ব্যয়বহুল অনলাইন ক্লাসে যে সব শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারবে না তাদের কী হবে? কেননা, এক জন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর জন্যে ক্লাসরুমে সকলের ক্লাস করার সুযোগ থাকলেও অনলাইনে ক্লাস সকলের জন্যে না। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-কার্যক্রম চালু রাখতে প্রযুক্তির এ যুগে অনলাইন ক্লাস অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। যার মাধ্যমে শিক্ষা-কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি সেশনজটও কমিয়ে আনা যাবে। তবে তার আগে সব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য যে টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রয়োজন তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের পাবলিক  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা ইউজিসির কাছে বিনা মূল্যে  ইন্টারনেট সুবিধার জন্যে যে দাবি জানিয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর পাশাপাশি সব অঞ্চলে নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করা এবং ক্লাসকে অংশগ্রহণমূলক করার জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান বৈষম্যকেই প্রকট করবে বলে মনে করি।

n লেখক : শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়