সিলেটে নিখোঁজের এক বছর পর কামাল আহমদ নামের এক ব্যবসায়ীর হাড়গোড় ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের একজন স্বীকারোক্তি দিলেও অপর দুই জন মুখ খুলছে না। তাদের বুধবার বিকালে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইলে দুই জনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুত্ফর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার সকালে নিহত ব্যবসায়ীর দোকান কর্মচারী আমির উদ্দিনকে (২৪) গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অপর আসামি হেলাল আহমদ ও আব্দুস শহীদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আমিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঐদিনই বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কনকলস এলাকার একটি ডোবায় ডুবুরি নামিয়ে কামাল আহমদের ড্রামে ভরা ১৫টি হাড় উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় ইত্তেফাককে বলেন, প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে কামাল হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বছর ১০ আগস্ট ব্যবসায়ী কামাল আহমদ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার ভাই জালাল আহমদ গত ৩ ডিসেম্বর আদালতে আমির উদ্দিনসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করলে, আদালত মামলাটি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠায়। কামাল আহমদ বিয়ানীবাজারের চারখাই এলাকার আদিনাবাদ গ্রামের মৃত রকিব আলির ছেলে।
জিজ্ঞাসাবাদে আমির উদ্দিন জানান, কামাল আহমদের অগোচরে তার মনোহরি দোকান থেকে ৮ লাখ টাকার মাল আসামি হেলালের নিকট বাকিতে বিক্রি করেছিল তিনি। পরে কামাল ঐ টাকার জন্য চাপ দিলে আমির উদ্দিন, আলী হোসেন, হেলাল আহমদ, আলী আকবর, আলীম উদ্দিন, আব্দুস শহিদ ও জুবের আহমদ মিলে তাকে অপহরণ করে হত্যা করে। পরে লাশ প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে পার্শ্ববর্তী ব্রিক ফিল্ডের ডোবার নিচে লুকিয়ে ফেলে।