প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা

মিল-চাতাল ও ৪০ বিঘা জমির মালিকের ছেলের নাম তালিকায়

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ১ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ৬০-৭০ হাত পশ্চিমে ছান্দিয়াপুর গ্রামে জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি। ছান্দিয়াপুর বাজারে আছে তার ধান ভাঙানো মিল ও চাতাল। এছাড়া তার কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় ৪০ বিঘা। তার পরও তার একমাত্র ছেলে আবদুল্যা আল মামুনের (২৬) নাম ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার তালিকাতে ৩৪৭ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তালিকার ৩৪৬ ও ৩৫০ নম্বরে রয়েছে একই গ্রামের ২০ বিঘা কৃষিজমি ও হাফ বিল্ডিং বাড়িওয়ালা গৃহস্থ দুই সহোদর আতোয়ার রহমান ও আলতাফ হোসেনেরও নাম। এই রকম অনেক সচ্ছল ব্যক্তি এই তালিকাভুক্ত হয়েছে। কিন্তু সুবিধাভোগী ৭১১ জনের তালিকায় ঠায় পায়নি প্রকৃত দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষেরা।

এক অনুসন্ধানে জানা যায়, এই কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচন করতে এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে সাদুল্লাপুর উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। তারা আত্মীয়স্বজন ও নিজেদের পছন্দের ব্যক্তির নাম এই তালিকাতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

তালিকায় স্বজনপ্রীতির এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রসুলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল গফুর মিয়া বলেন, ‘ত্রাণ বিতরণ আর ২ হাজার ৫০০ টাকার তালিকাতে যে অনিয়ম হয়েছে তাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্য ব্যাহূত হচ্ছে। তিনি এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল করিম দুলা জানান, সহায়তা পাওয়ার যোগ্যরাই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।  

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নবী নেওয়াজ বলেন, অভিযোগ পেলে অনিয়মের বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি বলেন, এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।