সংসদে প্রধানমন্ত্রী

রিজেন্টকে সরকারই ধরেছে পাপুলের তদন্ত চলছে

কোভিড-১৯ পরীক্ষার নামে বেসরকারি রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা ও জালিয়াতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকেই এটা খুঁজে বের করে ধরা হয়েছে। অপরাধীদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে কুয়েতের কারাগারে বন্দি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাপুল কুয়েতের নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে এ সম্পর্কিত অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।                শেখ হাসিনা বলেন, ‘সে (পাপুল) কুয়েতের নাগরিক কি না, সেটা কিন্তু কুয়েতের সাথে আমরা কথা বলছি, সেটা দেখব। আর যদি এটা হয়, তাহলে তার ঐ সিট হয়তো খালি করিয়ে দিতে হবে। কারণ যেটা আইনে আছে সেটা হবে। তার বিরুদ্ধে আমরা এখানেও তদন্ত করছি।’

এর আগে সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ কুয়েতের নাগরিক হিসেবে পাপুলের গ্রেফতার হওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। হারুন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জনকারী বা আনুগত্য গ্রহণকারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন। এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দরকার।

বিএনপির এমপি হারুন তার বক্তব্যে রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ৫০ লাখ পরিবারকে সরকারের দেওয়া সহায়তার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আসা তথ্য তুলে ধরেন। রিজেন্টের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিন্তু সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। মাননীয় সংসদ সদস্য এই তথ্য আগেভাগে জানাতে পারলে আমরা খুশি হতাম।’ ৫০ লাখ পরিবারকে সহায়তার বিষয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘তালিকা তিন দফা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যে পাওয়ার  যোগ্য, সরাসরি তার কাছে আমরা টাকাটা পৌঁছে দিচ্ছি।’

দেশে করোনার প্রভাব দিনে দিনে বাড়ছে :এদিকে গতকাল বুধবার ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনার প্রভাব দিনে দিনে বাড়ছে। সরকার ইতিমধ্যে অনেক প্রতিরোধ-প্রতিকারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। দ্রুততম সময়ে সঠিক কৌশল অনুসরণ করায় এ পর্যন্ত দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, করোনার বিস্তার রোধে লকডাউন কার্যকর কৌশল হলেও এই পরিস্থিতি দীর্ঘকাল অব্যাহত থাকলে কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে কর্মহীনতা ও দারিদ্র্য লাগামহীন হারে বেড়ে অন্যান্য কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।

বগুড়া-৫ আসনের হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের সংকট নিরসনে সরকার বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে (১২ জুন পর্যন্ত) ১৪ হাজার ৯৫৭ জন প্রবাসী শ্রমিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা’ বের হচ্ছে :জাপার মুজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা’ নামে একটা লেখা আছে। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র মতোই ওনার জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে কিছু লেখা। সেই লেখাগুলো আমি প্রস্তুত করেছি। তা প্রায় তৈরি হয়ে আছে। ওটা আমরা ছাপতে দেব।”

বঙ্গবন্ধু কখনো জেলজীবনের কথা বলতেন না :জাতির পিতা তার জীবদ্দশায় সন্তানদের বা পরিবারের সদস্যদের কাছে কখনো জেলজীবনের দুঃখ-কষ্টের কথা বলতেন না বলে সংসদকে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কিন্তু কখনো তার কারাজীবনের কোনো কষ্ট, দুঃখ-যন্ত্রণা কিছুই বলেননি। যেটুকু আমরা জানি, তার লেখা পড়ে আমরা এটা জেনেছি। আমি রেহানাকে জিজ্ঞাসা করেছি। জবাবে রেহানা বলল, আব্বাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বলেছিলেন তোর শোনা লাগবে না। শুনলে সহ্য করতে পারবি না।’ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এত কষ্ট একজন মানুষ একটা দেশের জন্য, জাতির জন্য করতে পারেন, তা ধারণার বাইরে। তিনি ইচ্ছা করলেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। ক্ষমতায় যেতে পারতেন। কিন্তু ওনার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা।’

বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তানে কারাবাসের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে :প্রধানমন্ত্রী বলেন, “‘কারাগারের রোজনামচা’ মূলত ১৯৬৬ থেকে ’৬৮ সাল পর্যন্ত। ’৭১ সাল থেকে আমরা ওনার কোনো লেখা পাইনি। কারণ ’৭১ সালে উনি কারাগারে (পাকিস্তানে)। সেখানে কীভাবে ছিলেন, কী অবস্থায় ছিলেন, আসলে তার কিছুই আমরা জানি না। সামান্য একটা লাইন পাওয়া গেছে আইয়ুব খানের ডায়ারিতে, অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত এটা। সেখানে ওনার সম্পর্কে কিছু কমেন্ট করা আছে। বঙ্গবন্ধুকে যখন কোর্টে নিয়ে আসা হতো, উনি আসতেন, দাঁড়াতেন, বসতে বললে বসতেন। উনি এসে দাঁড়িয়েই নাকি ‘জয় বাংলাদেশ’ বলতেন। বলতেন, ‘আমাকে যা খুশি তাই করো। আমার যেটা করার আমি তা করে ফেলেছি। অর্থাত্ আমার বাংলাদেশ তো স্বাধীন হবেই।’ এর বাইরে একাত্তরের কিছু আমি পাইনি। তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। চেষ্টা আছে ওখান (পাকিস্তান) থেকে কোনো কিছু উদ্ধার করা যায় কি না। আর আমি জেলখানায় ছবি আনতে গিয়েছিলাম। দেওয়ালে টানানো ছোট্ট একখানা ছবি পেয়েছি। আর কিছু পাইনি।”