যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখ বিদেশির শিক্ষাগ্রহণ অনিশ্চয়তায়

চীনা তরুণ তিয়ানইউ ফ্যাং যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন সেই ছোটবেলা থেকেই। সেই লক্ষ্যে মাধ্যমিক সমমানের লেখাপড়াও করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। মাধ্যমিকের পর ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে নিজ দেশ চীনে ফিরে গিয়েছিলেন। মাস দুয়েকের মধ্যেই তার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে অন্যতম সম্মানজনক উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র ক্যালিফোর্নিয়া স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টার শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু গত সোমবার সব বিশ্ববিদ্যালয়কে অনলাইনে ক্লাস চালু করতে বলার পর থেকে অনিশ্চয়তার মধ্যে তিয়ানইউ ফ্যাংয়ের মতো ১০ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। এর ফলে যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রয়েছেন, তাদের আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল। এমনকি যারা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তাদেরও অচিরেই দেশ ছাড়ার জন্য বলা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের চলমান মহামারির ভয়াবহতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। কিন্তু তাতে বিপাকে পড়েছেন লাখ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্য এখনো নিজ ক্যাম্পাসে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মহামারি পরিস্থিতি দিনে দিনে যেভাবে নাজুক হয়ে পড়ছে, তাতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও অচিরেই অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার উদ্যোগ নিতে বাধ্য হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই নীতিমালায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে এশিয়া থেকে আসা ছাত্রদের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশিদের মধ্যে তাদের সংখ্যাই অর্ধেকের বেশি। শুধু ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষেই ৩ লাখ ৭০ হাজার চীনা ছাত্র যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। এরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিলেন ভারতীয়রা—২ লাখ ২ হাজার জন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রায় ৫২ হাজার ছাত্র মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হয়েছেন।

ইতিমধ্যে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতিটি সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছে, যার আওতায় শুধু ফল সেমিস্টার (আগস্ট থেকে ডিসেম্বর) এবং সামার (মে থেকে আগস্ট) সেমিস্টারে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ক্লাস করার সুযোগ পাবেন। এর অর্থ হচ্ছে, ফল সেমিস্টারে ক্যাম্পাসে ক্লাস করার পর পরবর্তী সেমিস্টারে তাকে অনলাইনে পাঠদান নিতে হবে। নতুন নিয়মের আওতায় তাকে অবশ্যই এই সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে।

দেশে বসেই অনলাইনে ক্লাস করার জন্য ৬০ হাজার মার্কিন ডলার খরচ করা উচিত হবে কি না, তা নিয়েও দ্বিধায় রয়েছেন ফ্যাংয়ের মতো অনেক শিক্ষার্থী। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, সেই শিক্ষাজীবন যে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা থেকে তাকে বঞ্চিত করবে, তা-ও বলাই বাহুল্য।  এমন অযাচিত ভোগান্তির মুখে পড়তে চলেছেন যে ১০ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী, তাদের অধিকাংশ যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে উদার ধারণা পোষণ করতেন। তাদের সেই ধারণায় এখন রাতারাতি পরিবর্তন আনতে বাধ্য হবেন এটা খুবই স্বাভাকি বিষয়।—সিএনএন