পানি বৃদ্ধিতে ভাঙনের কবলে ঘরবাড়ি কৃষিজমি

করতোয়ার পানি কয়েক দিন বৃদ্ধি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার কমলেও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের এই সময়ে গাইবান্ধার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। বন্যাকবলিত দুস্থ পরিবারগুলো খাদ্যসংকটে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়ন সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বন্যাকবলিত ও নদীভাঙনে নিঃস্ব মানুষের দুর্ভোগের চিত্র। গোঘাট গ্রামের দিনমজুর আয়েন উদ্দিন (৫০) জানান, নদীতে সব বিলীন হয়েছে। এখন তিনি নিজেই দিনমজুরের কাজ করেন। একই গ্রামের ছবিউল মিয়া বলেন, করোনা আমাদের পঙ্গু করে দিয়েছে। এর মধ্যেই বন্যা এসেছে। চৌকির ওপর রান্নাবান্নার কাজ করছিলেন মায়া রানী সাহা (৫৫)। তিনি বলেন, দশ দিন ধরে পানির মধ্যে বাস করছি। দিনমজুর রাজু মিয়া (৫০) বলেন, বন্যার সময় কাজ নাই। ত্রাণও পাচ্ছি না।

কামারজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস ছালাম বলেন, নদীভাঙনের কারণে এ ইউনিয়নে অভাবী লোকের সংখ্যা বেশি। কিন্তু সে অনুপাতে ত্রাণ বরাদ্দ পাইনি। বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছে ত্রাণ চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রসুন কুমার চক্রবর্তী বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে কামারজানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, যে কোনো সময় ব্রহ্মপুত্র নদ, যমুনা ও ঘাঘটের পানি বৃদ্ধি শুরু হতে পারে। ফলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে।