মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আটক বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েতের নাগরিক নন বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
আরব টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার টুইটারে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সকল গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে যে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী পাপুল কুয়েতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এ কথা সত্য নয়। সব যোগাযোগমাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা উচিত। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এমপি পাপুল কুয়েতের একটি আইনে বসবাস করছেন এবং দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে পাবলিক প্রসিকিউশনের হেফাজতে রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার পাপুলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বলেন, সে (পাপুল) কুয়েতের নাগরিক কি না সে বিষয়ে আমরা কুয়েতের সঙ্গে কথা বলছি। যদি তা হয় তাহলে ঐ আসন হয়তো খালি করে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের এক দিন পরেই কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে একথা জানানো হলো।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী পাপুল কুয়েতে মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সেখানে তার আরো কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত ৬ জুন মানব পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে কুয়েতের সিআইডি। এমপি পাপুল কুয়েতের ইতিহাসে বৃহত্তম মানব পাচারের ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তার স্ত্রীও সংরক্ষিত আসনে এমপি হন।
সংশোধনী :
এদিকে কয়েকটি পত্রিকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্য ভুলভাবে প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বার্তায় বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে— এমপি পাপুল কুয়েতের নাগরিক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাত্কারে পাপুলকে কুয়েতের নাগরিক উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, এমপি পাপুল বাংলাদেশ সরকারের কোনো ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট নিয়ে কুয়েতে যাননি এবং তিনি প্রায় ২৯/৩০ বছর কুয়েতে ব্যবসায় নিয়োজিত আছেন। তার হয়তো কুয়েতের রেসিডেন্ট পারমিট আছে।