মাত্র ৯ কার্যদিবসেই শেষ হলো চলতি একাদশ সংসদের দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশন। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেই গত ১০ জুন এই অধিবেশন শুরু হয়। বিরতি দিয়ে দিয়ে শেষ হলো গতকাল বৃহস্পতিবার। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন।
করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সীমিতসংখ্যক সংসদ সদস্যকে নিয়ে শুরু হওয়া এবারের অধিবেশনে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পেশ হয় ১১ জুন। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবারের বাজেটের ওপর আলোচনা হয়েছে মাত্র দুই দিন। এছাড়া এক দিনেই আলোচনা হয়ে পাশ হয় সম্পূরক বাজেট। দুই দিন শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। অতীতে বাজেটের ওপর ৪০ থেকে ৬৫ ঘণ্টার মতো আলোচনা হয়েছে। আর এবার বাজেটের ওপর আলোচনা হয়েছে মাত্র ৫ ঘণ্টা ১৮ মিনিট।
বাজেট নিয়ে তেমন আলোচনা না হলেও এবারের অধিবেশনে ঘুরেফিরে এসেছে সরকারের স্বাস্থ্য খাত। করোনা পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা নিয়ে দফায় দফায় কথা হয়েছে। বিরোধী এমপিদের কথায় উঠে এসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম ও কেনাকাটায় দুর্নীতির বিষয়। সর্বশেষ রিজেন্ট হাসপাতালের জালিয়াতি, করোনা মোকাবিলায় নিম্নমানের সরঞ্জাম কেনার বিষয়ও উঠে আসে সংসদের আলোচনায়। ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অপসারণের দাবিও ওঠে। এর বাইরে মানব ও অর্থ পাচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের কুয়েতে গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে শেষ হওয়া বাজেট অধিবেশনে।
গতকাল দুপুরে অধিবেশনের সমাপনীসংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আদেশ পড়ে শোনান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর পরই তিনি অধিবেশনের সমাপ্তি টানেন।