আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন এমপি আর নেই। গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় উন্নত চিকিত্সার জন্য থাইল্যান্ডে নেওয়া হলেও বাঁচানো গেল না তাকে। থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২৫ মিনিট) তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। চিরকুমারী সাহারা খাতুনের বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। তিনি দেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তার মৃত্যুতে দলীয় নেতাকর্মীসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রাতে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে সাহারা খাতুন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন কাজ করে গেছেন এবং দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে আইনিসহ সকল সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করেছেন। শেখ হাসিনা আরো বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন দক্ষ নারীনেত্রী এবং সত্ জননেতাকে হারালো। আমি হারালাম এক পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাকে। প্রধানমন্ত্রী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মুজিব আদর্শের একজন নির্ভীক সৈনিক ও নিবেদিত প্রাণ সাহারা খাতুন জ্বর, অ্যালার্জিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে অসুস্থ অবস্থায় গত ২ জুন ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অবস্থার অবনতি হলে গত ১৯ জুন সকালে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। এরপর অবস্থার উন্নতি হলে তাকে গত ২২ জুন দুপুরে আইসিইউ থেকে এইচডিইউতে (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) স্থানান্তর করা হয়। পরে ২৬ জুন সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। গত সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সাহারা খাতুনকে ব্যাংককে নেওয়া হয়েছিল। এর আগে পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশে নিতে চাইছিল, যদিও করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে তাতে দেরি হয়। সাহারা খাতুন তৃতীয় মেয়াদ জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। শেখ হাসিনার ২০০৯-১৩ সরকারে প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলে সাহারা খাতুনকে যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করেছিলেন, তখন তা ছিল চমকের মতোই। কিন্তু তার ঠিক আগে কঠিন সময়ে বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েই দলীয় সভানেত্রীর আস্থা অর্জন করেছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হলে আওয়ামী লীগের যে কজন নেতা দলীয় সভানেত্রীর প্রতি আনুগত্য ধরে রেখে ছিলেন সক্রিয়, তাদেরই একজন সাহারা খাতুন। তখন বিনা পারিশ্রমিকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নামে করা মামলা পরিচালনায় ভূমিকা রেখেও দলের নেতা-কর্মীদের কাছাকাছি ছিলেন তিনি।
সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি। এছাড়া সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি প্রমুখ। তারা সাহারা খাতুন এর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সাহারা খাতুন ১৯৪৩ সনের ১ মার্চ ঢাকার কুর্মিটোলা গ্রামে পিত্রালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক মহিলা আইনজীবী সমিতি ও আন্তর্জাতিক মহিলা জোটের সদস্য।