মো. মনির হোসেন
একজন মা তার স্বামী-সন্তান-সংসারের কথা ভেবে নিজের ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো বিসর্জন দেন। সংসারের মায়ায় সময়ের আবর্তনে কোন ফাঁকে যে মা তাঁর কৈশোর-যৌবন পার করে চুলে পাক ধরিয়ে ফেলেন সে খবরটাও তিনি ভুলে যান। যখন শুনি একদল সন্ত্রাসী স্বামী-সন্তানকে ঘরে বেঁধে এই মাকে ধর্ষণ করে তখন আতঙ্কে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি। যখন হাসপাতালের বিছনায় ব্যাথায় কাতর কণ্ঠে মা বলেন, ‘তারা আমাকে বাইরে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে’—তখন একজন মায়ের সন্তান হিসেবে নিজেকে খুব অসহায় মনে হয়।
গত সোমবার রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে একটি বিশেষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার কারণে এক মাকে প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে সন্ত্রাসীরা। এরপর সেই মাকে মারাত্মক আহত করে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে ঘর থেকে ৪০ হাজার টাকা, সোনার গয়না ও অন্যান্য দামি জিনিস নিয়ে ধর্ষণকারীরা পালিয়ে যায়।
ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে সেই সন্ত্রাসীরা গণধর্ষণের মতো এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। তারা দলের ভাব-মূর্তি নষ্ট করেছে। তারা ধর্ষক তারা অপরাধী আর অপরাধীদের কোনো দল থাকতে পারে না।
অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির শাসনামলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। আমরা দেখেছি কত ভয়াবহ নিষ্ঠুর বলির শিকার হয়েছে মানুষ বিশেষ করে নারীরা। তখনকার বিভীষিকাময় পরিস্থিতি ক্ষমতার পালাবদলে পরিবর্তিত হয়ে আজ উন্নয়নের মূল নায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে।
বাংলাদেশের জনগণ খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও দুঃশাসনে ফিরে যেতে চায় না। তাই আবারও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগকে টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত করেছে। বিরোধীদের নিরাপত্তা বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি যখন প্রধানমন্ত্রী হই তখন সব মানুষেরই প্রধানমন্ত্রী হই। সবাইকে সুরক্ষা দেওয়া আমরা দায়িত্ব।’ তাঁর এই কথার ওপর ভরসা রাখি। বিশ্বাস করি ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নবযাত্রা শুরু করবে।
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়