আলুর উত্পাদনে স্বস্তিতে ফুলবাড়ির চাষিরা

বাজারে আলুর দাম কমে গেলেও উত্পাদিত আলু বিক্রি করে আশানুরূপ লাভ থাকছে বলে জানান দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার আলু চাষিরা। ক্ষেত থেকে নতুন আলু তোলার আনন্দ আর আশানুরূপ লাভ পাওয়ায় আলু চাষিরা এবার স্বস্তিতে। বর্তমানে চাষিরা ক্ষেতের আলু তুলতে ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি ব্যস্ত সময় পার করছেন আলু ক্ষেতে।

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি আলু চাষ মৌসুমে উপজেলার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমি; কিন্তু গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত চাষ হয়েছে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। ২ হাজার ৫০ হেক্টরের মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের ১ হাজার ৮০০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ২৫০ হেক্টর রয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে কার্ডিনাল ৪৫০ হেক্টর, গ্রানুলা ৪৫০ হেক্টর, স্টেরিক ৪০০ হেক্টর ও রোমানা ৫০০ হেক্টর রয়েছে। উচ্চ ফলন শীল জাতের আলুর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি হেক্টরে সাড়ে ১৮ থেকে ২০ মেটিক টন এবং স্থানীয় জাতের সাড়ে ৮ থেকে ১০ মেটিক টন।

উপজেলার গঙ্গপ্রসাদ গ্রামের অলুচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর ৩ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল রোমানা জাতের আলু চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তবে উত্পাদিত আলু বিক্রি হয়েছে দেড় লাখ টাকায়। এতে তার লাভ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা।

একই এলাকার আব্দুল মান্নান ৬ বিঘা, মোফাজ্জল হোসেন ৭ বিঘা, আমিনুল ইসলাম ৩ বিঘা, মতিয়ার রহমান ২ বিঘা ও আব্দুল হামিদ ৫ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের আলু চাষ করেছেন। এতে প্রতি বিঘা জমিতে আলু পাওয়া যাচ্ছে ৫৮ থেকে ৬০ মণ করে। জমির পরিমাণ ভেদে প্রত্যেক চাষিই আশানুরূপ লাভের মুখ দেখায় আগামীতে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হবে বলে খোদ চাষিরাই আশা করছেন।

পৌর বাজারের আলুর খুচরা ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, আবু বক্কর, সাইফুল ইসলাম ও তুহিন হোসেন বলেন, বর্তমানে খুচরা বাজারে রোমানা লাল আলু প্রতি কেজি সাড়ে ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এরপরও রয়েছে এই রোমানা লাল আলুর সংকট। তবে সাদা প্রতি কেজি ১৩ থেকে ১৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ ১৫ দিন আগে রোমানা লাল আলু প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩২ টাকা এবং সাদা প্রতি কেজি ২৮ থেকে ২৯ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী মমতাজ হোসেন, মমিনুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, হারুন উর রশিদ ও প্রদীপ কুমার বলেন, পাইকারি বাজারে লাল আলু প্রতিকেজি ১৭ টাকা এবং সাদা ১১ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে লাল আলুর চাহিদা থাকলেও প্রয়োজন মাফিক সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এটিএম হামীম আশরাফ বলেন, উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামান্য কম জমিতে আলু চাষ হলেও প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না থাকাসহ অনুকূল পরিবেশের কারণে এ বছর আলুর উত্পাদন আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। এতে করে চাষিরা আশানুরূপ লাভের মুখ দেখছেন। তবে আগামভাবে যারা আলু চাষ করেছিলেন তারা ইতোমধ্যে ক্ষেতের আলু তুলে নিয়ে সেই জমিতে এখন ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। কারণ আলুর ক্ষেতে ভুট্টা চাষ করলে সেখানে সার ও কীটনাশক ওষুধ লাগে অনেক কম এবং ফলন হয় অনেক ভালো।