নেত্রকোনায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বাঁশ ঝাড়। সেই সঙ্গে প্লাস্টিক সামগ্রী চলে আসায় কমে গেছে বাঁশের ব্যবহার। এই জেলা এক সময় বাঁশের জন্য বিখ্যাত হলেও এখন আর সে ঐতিহ্য নেই। নেত্রকোনা শহরের ভিতর যেমন বাঁশ ঝাড় ছিল, তেমনি ছিল গ্রামে সড়কের পাশে। এখন শহরতো দূরের কথা, গ্রামাঞ্চলেও বাঁশ ঝাড়ের দেখা পাওয়া ভার।
বাঁশের ব্যবহার প্রথম ছিল বাসাবাড়ি তৈরির জন্য। বিশেষ করে ঘরের পালা বা খুঁটি দেওয়ার জন্য বাঁশের ব্যবহার হতো। বেড়ার জন্য ব্যবহার হতো। পাকা বাড়িঘর তৈরির কারণে শহরাঞ্চলে বাঁশের ব্যবহার কমে আসতে থাকে। ৩০ থেকে ৪০ বছর আগেও যা ছিল এখন আর তা নেই। এছাড়া কুটির শিল্পজাত দ্রব্য অর্থাত্ ধারী বা চাটাই, কুলা, চালন, খাঁচা, ফুলের সাজি এবং ধান রাখার জন্য ডুলি তৈরিতে বাঁশের ব্যবহার ছিল অত্যধিক; কিন্তু এখন সে দিন আর নেই। প্লাস্টিক সামগ্রী চলে আসায় বাঁশের ব্যবহার কমে যায়; কিন্তু এরপরেও এখনো বাঁশের ব্যবহার গ্রামে আছে। তবে এখন আর আগের চাহিদামতো বাঁশ পাওয়া যায় না।
নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, তারা কৃষকদের বাঁশের আবাদের জন্য বলেন। কোনো কোনো এলাকায় বাঁশের আবাদ বেড়েছে বলেও তিনি জানান। তবে যাই হোক বা যে যাই বলুক, গ্রামের পথে পথে এখন আর বাঁশ ঝাড় চোখে পড়ে না। বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ আর দেখা যায় না। চাঁদ এখন বাঁশ ঝাড় ছাড়াই দেখা যায়।