আইজিপির সদিচ্ছা পূরণ হউক

দায়িত্ব গ্রহণ করিয়া প্রথমবারের মতো ৬৬০ জন ওসির সঙ্গে ভার্চুয়াল সম্মেলন করিয়াছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি)  ড. বেনজীর আহমেদ। ঐ সম্মেলনে তিনি বেশ কিছু কথা বলিয়াছেন যাহা দেশবাসীর মধ্যে আশা জাগাইয়া তুলিয়াছে। তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করিয়া বলিয়াছেন, বর্তমানে সরকারি বেতন ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা দিয়া সুন্দরভাবে জীবন চালানো যায়। একজন সরকারি কর্মচারীর ব্যয় হইতে হইবে তাহার বৈধ আয়ের সহিত সংগতিপূর্ণ। অবৈধ অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে বিলাসী জীবনযাপনের স্থান পুলিশের চাকুরি নহে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলিয়াছেন, দুর্নীতিবাজরা পুলিশে থাকিতে পারিবে না।

নিঃসন্দেহে তাহার কথা মানুষের মধ্যে আশার উদ্রেক করিয়াছে। বর্তমান আইজিপি একজন সুশিক্ষিত  এবং যোগ্য কর্মকর্তা। তাহার দেশপ্রেমও প্রশংসনীয়। শিক্ষাজীবনেও তিনি মেধাবী, সত্ ও জনপ্রিয় শিক্ষার্থী ছিলেন বলিয়া আমরা জানি। অতএব তিনি যাহা বলিয়াছেন, তাহা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করিয়াই বলিয়াছেন। তাহার সঙ্গে দ্বিমত করিবারও কোনো অবকাশ নাই। সেই সঙ্গে ইহাও সত্য যে, বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে আমরা যতটা জানি তাহার চাইতেও তিনি অনেক বেশি ওয়াকিবহাল রহিয়াছেন। তবু আমরা তাহাকে বিনয়ের সঙ্গে স্মরণ করাইয়া দিতে চাই, সমস্যা আরো গভীরে প্রোথিত রহিয়াছে। একজন কর্মকর্তা কখন সততার সঙ্গে কর্ম করিবেন? যখন তাহার সামনে সততার উদাহরণ থাকিবে, কর্মজীবনে চলার পথটি নিষ্কণ্টক হইবে। আইজিপি মহোদয়কে গভীরভাবে তলাইয়া দেখিতে হইবে সেই সততার উদাহরণ তাহাদের সম্মুখে রহিয়াছে কি না। দেশব্যাপী গুঞ্জন রহিয়াছে, একজন ওসির কাঙ্ক্ষিত তথা ‘লোভনীয়’ পুলিশ স্টেশনে পোস্টিং লইতে কমবেশি ৫০ লক্ষ টাকা ‘ব্যয়’ করিতে হয়, যাহা অসত্য নহে। ইহার পর ঐ অর্থ তুলিতে কর্মকর্তাকে নয়ছয়ের আশ্রয় লইতে হয়! আইজিপি মহোদয় যদি চাহেন বর্তমান পরিস্থিতি বদলাইয়া দিতে, তাহা হইলে ঐ অর্থ কোন বরাবর যায় সেই পথও উত্পাটন করিতে হইবে। নচেত্ পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব হইবে না। পুলিশের নিয়োগবাণিজ্য বলিয়া একটি কথা প্রচলিত আছে। তাহাও সর্বোচ্চ স্বচ্ছ করিয়া তুলিতে হইবে। পথ যথেষ্টই দুর্গম!

আমরা পূর্বেও এইরূপ আশার কথা শুনিয়াছি। কিন্তু কাজ হয় নাই। ড. বেনজীর আহমেদ একজন দৃঢ়চেতা মানুষ। তাহার সদিচ্ছায় যে দুই-চারটি অ্যাকশন হইবে না, তাহা নহে। কিন্তু পরিস্থিতি অতটা সহজ নহে বলিয়াই আমাদের ধারণা। কথায় বলে, ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ঔষধ দিব কোথা!’ আইজিপির এই সদিচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে হইলে তাহার জন্য বিভিন্ন মহল হইতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন হইবে। আমরা আশা করি, পরিস্থিতি পালটাইবে। কিন্তু রাতারাতি পরিস্থিতি পালটানো যাইবে বলিয়া ঠাহর হয় না। তবুও এই ইচ্ছা যদি আইজিপি পর্যায় হইতে দৃঢ়ভাবে ধরিয়া রাখা যায়, তাহা হইলে সুফল আসিবেই। জনগণ তাহার সুফল ভোগও করিতে পারিবে। বর্তমান বাস্তবতা যাহাই হউক না কেন, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড. বেনজীর আহমেদের এই দৃঢ় উচ্চারণ ও সদিচ্ছার জন্য তিনি ভূয়সী প্রশংসার দাবি রাখেন। তাহার এই সদিচ্ছাও একটি প্রাপ্তি বলিয়া আমরা মনে করি।