মানুষের ষড়িরপুর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হইতেছে লোভ। লোভ মানুষকে অন্ধ করিয়া দেয়। লোভের সংসারে মানুষের মধ্যে ন্যায়নীতি বোধ লোপ পাইয়া যায়। ইহার অসংখ্য উদাহরণ আমাদের সমাজে রহিয়াছে। করোনার এই বৈশ্বিক মহামারিকালে কিছু মানুষ লোভের আগুনে আলুপোড়া খাইতে ব্যস্ত। করোনা ভাইরাস হইতে রক্ষা পাইতে বাজারে চাহিদা বাড়িয়াছে জীবাণুনাশক পণ্যের। আর এই চাহিদাকে পুঁজি করিয়াই ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশে এন্তার বিক্রয় হইতেছে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার। প্রসাধনী কিংবা সুগন্ধির দোকান হইতে শুরু করিয়া ফার্মেসির দোকানে তৈরি হইতেছে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার। সম্প্রতি রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড রাব ও ঔষধের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করিয়াছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা হইতে রাত ১১টা পর্যন্ত মিটফোর্ড সরদার মার্কেট, আরমানিটোলা এলাকার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান চালাইয়া বিপুল পরিমাণে নকল ঔষধ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির ম্যাটেরিয়াল জব্দ করে, ধ্বংস করা হয়। সার্ফ এক্সেল, চাকা বা রিনের মতো কোম্পানির ডিটারজেন্ট নকল করিয়া প্যাকেটজাত ও বিক্রয়ের অভিযোগে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের পণ্য জব্দসহ কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এই যে পণ্য বিপুল পরিমাণ নকল ও ভেজাল পণ্য জব্দ করা হইয়াছে, ইহা সমগ্র নকল পণ্যের বাজারে হিমবাহের চূড়া মাত্র। করোনাকালে এখন রাস্তায় রাস্তায় ফেরি করিয়া ৫০ হইতে ৭০ শতাংশ হ্রাসকৃত মূল্যে স্যানিটাইজার, পিপিই, মাস্ক বিক্রয় করা হইতেছে। যে কেহ বুঝেন ঐগুলি নকল। এতটা কম দামে যেই পণ্য বিক্রয় করা হয়, তাহার প্রকৃত উত্পাদন খরচও অতি সামান্য। সুতরাং ইহা স্পষ্ট যে, ঐ সকল ভেজাল পণ্য দিয়া আর যাহাই হউক করোনাকে প্রতিহত করা যায় না। অথচ সরল বিশ্বাসে সস্তায় পাইয়া অনেকেই এই ভেজাল পণ্য ব্যবহার করিতেছেন। এইভাবে করোনা হইতে সুরক্ষা পাওয়া তো দূরের কথা, উলটা নকল পণ্যের কারণে ব্যবহারকারীর স্ক্রিনের সমূহ ক্ষতি হইতেছে। রসায়নবিদদের মতে, করোনা হইতে সুরক্ষার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ড রাব তৈরিতে ব্যবহার করা হয় আইসোপ্রোফাইল অ্যালকোহল, অ্যালোভেরা অয়েল, গ্লিসারিনসহ নানা রাসায়নিক দ্রব্য। মানবত্বকের সহনশীল মাত্রা অনুযায়ী এইগুলি ব্যবহার করিতে হয়। কিন্তু একটি সংঘবদ্ধ অসাধু ব্যবসায়ীচক্র আইসোপ্রোফাইল অ্যালকোহল ব্যবহার না করিয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকারক ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল মিথানল ব্যবহারে তৈরি করিতেছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ড রাব। ইহার সহিত ব্যবহার করিতেছে বিষাক্ত রং। ফলে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ড রাবের মতো সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারে জীবাণু তো নাশ হয়ই না, বরং উহাতে ক্যানসার ও চামড়ার রোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
সুতরাং যাহারা করোনার দুর্যোগকে পুঁজি করিয়া নকল সুরক্ষাসামগ্রী উত্পাদন ও বিক্রয় করিতেছে, তাহাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হইতে হইবে সস্তায় এবং ফুটপাত হইতে স্যানিটাইজার কিংবা অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয় করিবার ক্ষেত্রে।