ভারতের উত্তর প্রদেশে আট পুলিশ হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ‘গ্যাংস্টার’ বিকাশ দুবে পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রদেশে গ্রেফতারের পর গতকাল শুক্রবার সকালে উত্তর প্রদেশে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তিনি ক্রসফায়ারে নিহত হন। এদিকে তার হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, নাকি সে আত্মসমর্পণ করেছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খবর :বিবিসি ও এনডিটিভির।
গত ২ জুলাই রাতে কানপুরের কাছেই একটি গ্রামে বিকাশ দুবেকে গ্রেফতার করতে যায় পুলিশের একটি দল। সেদিন দুষ্কৃতকারীরা অতর্কিত হামলা চালালে একজন ডেপুটি পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টসহ আট পুলিশ কর্মী নিহত হন। বিকাশ আর তার দলবল সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন সকাল থেকেই তল্লাশি শুরু হয়। আট দিন ধরে ব্যাপক তল্লাশির পর বৃহস্পতিবার তাকে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ দাবি করেছে।
মধ্যপ্রদেশ থেকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পরে উত্তর প্রদেশ পুলিশ শুক্রবার তাকে কানপুরে নিয়ে যাচ্ছিল। রাস্তায় তাদের গাড়িটি দুর্ঘটনায় উলটে যায়। উত্তর প্রদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহানির্দেশক প্রশান্ত কুমার বলেছেন, স্পেশাল টাস্কফোর্সের যে গাড়িতে বিকাশকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেটি কানপুরের কাছে দুর্ঘটনায় পড়ে উলটে যায়।
এদিকে ক্রসফায়ারে ‘গ্যাংস্টার’ বিকাশ দুবের নিহতের ঘটনায় অনেক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াংকা গান্ধী থেকে শুরু করে উত্তর প্রদেশের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, মায়াবতীসহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। অখিলেশ যাদব টুইট করে লিখেছেন, গাড়ি উলটায়নি। রহস্য ফাঁস হলে সরকারই উলটে যেত। সেটা বাঁচানো গেছে। প্রিয়াংকা গান্ধী লিখেছেন, অপরাধী তো শেষ হয়ে গেল। কিন্তু অপরাধ আর তাকে রক্ষা করছিলেন যারা, তাদের কী হবে?
গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফেক এনকাউন্টার হ্যাশট্যাগ দিয়ে হাজার হাজার টুইট করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে ক্রসফায়ারে বিকাশ দুবের নিহত হওয়ার ‘কাহিনী’ নিয়েও। স্থানীয় বাসিন্দারা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, তারা কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে দেখেননি। গুলির আওয়াজ শুনে তারা ঘটনাস্থলের দিকে গেলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।