দেশে করোনা ভাইরাসে শনাক্ত ও মৃত্যু কমেছে। গত ২৪ ঘন্টায় ১৩ হাজার ৪৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৯৪৯ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবারের চেয়ে শুক্রবার ৪১১ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ৯ লাখ ১৮ হাজার ২৭২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৪৩ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান। দেশে করোনা শনাক্তের ১২৫তম দিনে ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩৭ জন মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২ হাজার ২৭৫ জন। বৃহস্পতিবারের চেয়ে গতকাল চার জন কম মারা গেছেন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় গতকাল মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৬২ জন। বৃহস্পতিবারের চেয়ে গতকাল ১ হাজার ৮৪৪ জন কম সুস্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সুস্থ হয়েছিলেন ৩ হাজার ৭০৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮৬ হাজার ৪০৬ জন।
তিনি জানান, গতকাল শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৮ দশমিক ৪২ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৪৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে সুস্থতার হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।
নতুন যুক্ত একটিসহ মোট ৭৭টি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৭৭ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৫ হাজার ৮৬২ জনের। বৃহস্পতিবারের চেয়ে গতকাল ১ হাজার ৪৮৫টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৭৭টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৮৮ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৫ হাজার ৬৩২ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের চেয়ে ২ হাজার ১৪৪টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৩৭ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ২৯ এবং নারী আটজন। ১২ জন ঢাকা বিভাগের, ১৭ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুই জন রাজশাহী বিভাগের, দুই জন সিলেট বিভাগের, দুই জন রংপুর বিভাগের, একজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের।
বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৮৯৩ জনকে এবং এ পর্যন্ত আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৩৪ হাজার ৯১৫ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৬৮ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১৭ হাজার ৭২৩ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৭ হাজার ১৯২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৬০০ জনকে, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ১৮১ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ১৬৯ জন, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইন থেকে মোট ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬৪৪ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬৩ হাজার ৫৩৭ জন।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সারাদেশে করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে সাধারণ শয্যার সংখ্যা ১৪ হাজার ৯৪৫টি। তাতে রোগী ভর্তি আছে ৪ হাজার ৩৬১ জন এবং শয্যা খালি আছে ১০ হাজার ৫৮৪টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা ৩৯৪টি। তার মধ্যে রোগী ভর্তি আছে ২২৬টিতে এবং খালি আছে ১৬৮টি। অর্থাত্ সাধারণ ও আইসিইউ মিলে রয়েছে মোট ১৫ হাজার ৩৩৯ শয্যা। তার মধ্যে ভর্তি আছেন ৪ হাজার ৫৮৭ জন রোগী। আর শয্যা ফাঁকা আছে ১০ হাজার ৭৫২টি।