ইত্তেফাক ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
ঝিনাইদহ: পশ্চিমের জেলাগুলোর উপর দিয়ে এক সপ্তাহ ধরে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। কনকনে শীতে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। শীতে ছিন্নমুল মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। জেলাগুলো হচ্ছে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, মাগুরা ও ঝিনাইদহ। কোনো দিন শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আবার কখনও মাঝারি হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. সামাদুল হক জানান, শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বৃহস্পতিবার ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
ফুলবাড়ি (দিনাজপুর): ফুলবাড়িতে শৈত্যপ্রবাহের সাথে ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন সড়ক পথে চলাচল করছে। এদিকে সরকারিভাবে কম্বল বরাদ্দ আসলেও সংখ্যায় তা অপ্রতুল। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। শীতের সাথে কনকনে বাতাসের কারণে কাহিল হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও ক্ষেতমজুরা।
রিকশা-ভ্যান চালক আব্দুল জব্বার, শাহাজাহান আলী, রফিকুল ইসলাম ও রমজান আলী বলেন, তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার সাথে কনকনে ঠান্ডা বাতাসের জন্য গত তিন দিন ধরে তেমন আয় রোজগার করতে পারেননি।
আদিবাসী নারী শ্রমিক আরতি কিস্কু, মিনতি মারডি ও শাপলা সরেন বলেন, শীত আর ঘন কুয়াশার সাথে সাথে হাঁড় কাঁপানো বাতাসের জন্য তারা ক্ষেতখামারে কাজে যেতে পারছেন না। এতে বেকার হয়ে থাকতে হচ্ছে বাড়িতে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শফিউল ইসলাম বলেন, হতদরিদ্রদের জন্য উপজেলার পৌরসভাসহ সাত ইউনিয়নে প্রথম দফায় ৩ হাজার ৬৬৪টি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যেগুলো আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
বাঘা (রাজশাহী): বাঘা উপজেলায় সূর্য্যের লুকোচুরি খেলায় বেড়ে গেছে শীতের প্রকপ। ফলে নদী তীরবর্তী ছিন্নমূল মানুষগুলো শীতের তীব্রতায় আবারও কাবু হয়ে পড়েছে। সেই সাথে উত্তরের হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডা বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বাঘার পদ্মা বিধৌত সীমান্তবর্তী চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আজম বলেন, পৌষের কনকনে শীতে কাঁপছে চরাঞ্চলবাসী। শীত যতটা না কাবু করছে, তার চেয়ে বেশি কাবু করছে হিমেল হাওয়া। যেনো শরীরে তীরের মতো এসে বিঁধছে ঠান্ডা। ফলে একদিকে কষ্ট পাচ্ছে হতদরিদ্র মানুষ অপরদিকে নষ্ট হচ্ছে সবুজ ভাণ্ডার হিসাবে খ্যাত চরাঞ্চলের বিভিন্ন ফসল।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, শীতজনিত কারণে গত দুই দিনে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ডাবল হয়েছে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক লোকজন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এদের অনেকেই ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসছেন।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় জনজীবনে কিছুটা দুর্ভোগ নেমে এসেছে। শুক্রবার কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুড়িগ্রামের কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা নিম্নগামী থাকায় শীত বেড়েছে।
জেলার সর্বত্র দিনে আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও তাপমাত্রা কম থাকছে। দিনে কিছুটা উষ্ণতা থাকলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ঠান্ডার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। রাত যতই গভীর হয় ততই বাড়তে থাকে শীতের প্রকোপ। এদিকে গরম কাপড়ের অভাবে শীতে কষ্টে ভুগছে হতদরিদ্র মানুষ। শ্রমজীবী মানুষ দিনে কিছুটা সময় কাজকর্ম সারতে পারলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে হয়ে পড়ছে পুরোপুরি কর্মহীন।