মুক্তি বসু
সম্প্রতি ‘অর্থনৈতিক প্রণোদনা’ বিষয়টি বারংবার পত্রিকার শিরোনাম এবং একটি আলোচনার ক্ষেত্র হিসেবে পরিণত হচ্ছে। আর্থিক এই প্রণোদনা হচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে ও উত্সাহ জোগাতে এবং তদুপরি করোনা মহামারিতে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি কাটাতে সরকার কর্তৃক প্রদেয় বিশেষ সুবিধা বা আর্থিক প্যাকেজ। মহামারি করোনার অভিঘাতে যখনই দেশের অর্থনৈতিক খাত বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে তাকে সবল করতে অর্থনৈতিক প্রণোদনার ঘোষণা। বর্তমান সরকারের এই মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনন্য প্রশংসার দাবিদার। তথ্যানুযায়ী, সরকার ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি অর্থমূল্যের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে শিল্পঋণের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষ ও কৃষকের জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ ও সহায়তা কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাত্ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এমন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান এবং কিয়দংশ কৃষকরাও এই প্রণোদনার মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। সুতরাং ঘোষিত এই প্রণোদনার বেশির ভাগই যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের দখলে। কিন্তু তরুণ বেকার জনশক্তিও অর্থনীতির একটা অপার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র, যা চিরাচরিতই অবহেলিত। দেশে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব (প্রায় ৩০ লাখ)। আর বর্তমান করোনা সংকট পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট ক্ষেত্র হতে চাকরিচ্যুতের সংখ্যা, ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের সঙ্গে মিলিত হয়ে এক ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ করছে। উত্পাদক কিংবা ব্যবসায়ী, তারা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও দেশের বেকার তরুণ সমাজের তারুণ্যের শক্তি দেশের অর্থনীতিকে করতে পারে আরো সচল। অনেক দেশে বেকারত্বের ভাতা দেওয়া হলেও ক্ষেত্রবিশেষ আমাদের দেশে এমন ব্যবস্থা নেই। তাই এই দুর্যোগে যদি প্রণোদনার কিয়দংশ হলেও তাদের জন্য বরাদ্দ করা হতো, তাহলে সেই প্রণোদনা এই সংকটেও তাদের করতে পারত উদ্যোক্তা।
উল্লেখ্য, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী এই করোনাকালীন সংকট মুহূর্তে নিজ বাড়িতে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে মাছের ও সবজির চাষ করে বেশ স্বাবলম্বী হয়েছেন। তবে, শুধু এই উত্পাদন বৃদ্ধি করলেই চলবে না, উত্পাদিত দ্রব্যাদি ক্রয় করার মতো সক্ষমতার জন্য চাই ভোক্তার হাতে নগদ অর্থ। তাই এই বিষয়টিও বিবেচনার দাবিদার। যদিও বেকারত্ব যে কোনো দেশের উন্নয়নের জন্য প্রতিবন্ধকতার স্বরূপ। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষ এই দুর্বলতা বা প্রতিবন্ধকতাই অপার শক্তিতে পরিণত হতে পারে। তাই আমাদের দেশের বিদ্যমান ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব নামক উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাকে উপযুক্ত সুযোগের মাধ্যমে শক্তিতে রূপান্তরিত করা এবং দমিয়ে থাকা অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করার জন্য চাই প্রণোদনার মহতী উদ্যোগ।
n লেখক :শিক্ষার্থী,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।