নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ জেলার বদলগাছী থানার মেয়ে নাসিমা বেগম। করোনার উপসর্গ নিয়ে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ গ্রামে নিয়ে আসা হলে গ্রামবাসী বাধা দেয়। নিহতের স্বজনরাও দাফনে অস্বীকৃতি জানান। এমন প্রেক্ষাপটে বদলগাছী থানার এসআই আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সদস্যরাই নদীর তীরে নাসিমার দাফন কাজে অংশ নেয়।
শুধু দাফনকাজই নয়, করোনাকালে নওগাঁ পুলিশের বেশ কিছু ব্যতিক্রমী কার্যক্রম স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় অসহায় বোধ করেন। অর্থ থাকা সত্ত্বেও অনেকে বাজারে যেতে পারেন না। পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়ার উদ্যোগে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। করোনার সময় পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের কৌশল, কর্মপন্থা, সচেতনতা এবং অপারেশনাল কার্যক্রম বিষয়ক সভা, সেমিনার ও মতবিনিময় করছেন পুলিশ সুপার।
চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ২৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠেছে আমবাগান। মাঠ পর্যায়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় ৩ শতাধিক মৌসুমি আড়তে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে আমের বাণিজ্য। আম বাজারে পুলিশ কন্ট্রোলরুম স্থাপন, রাস্তায় ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি রোধে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করায় আম ব্যবসায়ী, চাষি, আড়তদার ও সরবরাহকারীদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। এরই মধ্যে আম ব্যবসায়ী, চাষি ও আড়তদারদের মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার বলেছেন, আমের বাজার, আড়ত বা ট্রাকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্তদের ছাড় দেওয়া হবে না।
করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় নওগাঁ পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের বেতন-ভাতার টাকা থেকে এমনকি রেশনের চাল, ডাল, তেল দিয়ে সাহায্য করে চলেছে নিম্নআয়ের মানুষকে। এরই মধ্যে জেলার প্রায় ১ হাজার ৫০০ হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য উপহার দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পাবনা, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নওগাঁয় আসা ধান কাটার শ্রমিকদের মাস্ক, সাবানসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে নওগাঁ জেলায় স্বাগত জানান পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া নিজে।
এ পর্যন্ত নওগাঁয় ৪২ জন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হলেও ৩৭ জন সদস্য সুস্থ হয়ে তাদের স্ব স্ব কর্মস্থলে যোগদান করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন পরিচালিত হচ্ছে কি না সে বিষয়টি পুলিশ কঠোরভাবে তদারকি করছে। এছাড়া বিদেশ এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নওগাঁয় আগত ব্যক্তিদের তালিকা প্রতিনিয়ত সংরক্ষণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করছে পুলিশ। নওগাঁ জেলার প্রায় ৯০০ গ্রাম পুলিশের মধ্যে ঈদের শুভেচ্ছাসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে, জেলা পুলিশের আহ্বানে নওগাঁ জেলার ৫৮ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করে আলোর পথের অভিযাত্রী হয়েছেন। পুলিশ সুপার নিজে সদর থানাধীন আত্মসমর্পণকারীদের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন রকমের খাদ্য উপহার দিয়েছেন।