চট্টগ্রামে অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সচেতন কোরবানিদাতারা বাজারে ভিড় এড়াতে অনলাইনে পছন্দের পশু কিনে নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে প্রায় দেড় হাজার কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। আবার অনলাইনে পশু বেচাকেনায় অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা প্রতারণার শিকারও হচ্ছেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, হাট না বসালে গৃহপালিত পশুর প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ বেশির ভাগ লোকের ফেসবুক খোলার ও অনলাইনে বেচাকেনার ধারণা নেই।
করোনা ভাইরাসের কারণে এবার অনলাইনে কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য সরকারিভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ‘কোভিড-১৯ জাতীয় পরামর্শক কমিটি’ চট্টগ্রামসহ দেশের চারটি স্থানে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর জন্য অনুরোধ করেছে। কমিটির এই ঘোষণায় প্রান্তিক খামারি বা গৃহপালিত পশুর লোকেরা বিপাকে পড়েছেন। কারণ অধিকাংশের মধ্যে অনলাইনে পশু বেচাকেনার কোনো ধারণা নেই। তাই পশুহাট না বসলে এসব পশুর মালিক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পশুর হাট না বসা নিয়ে বিক্রেতাদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে খামার বা ব্যক্তিগতভাবে যারা পশু মোটাতাজা করেন তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশ মানুষের অনলাইন বিষয়ে ধারণা রয়েছে। বাকি ৭০ শতাংশ মানুষের এই প্রক্রিয়ায় পশু বেচাকেনার ধারণা নেই। প্রান্তিক এসব কৃষক দুই/তিনটি করে গরু মোটাতাজা করে থাকেন। হাট না বসলে তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে অধিকাংশ খামারি জানান, প্রতি উপজেলায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা উদ্যোগী হলে প্রান্তিক কৃষকরা অনলাইনে গরু বিক্রির সুফল পেতে পারেন। যেমন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা যদি এলাকায় মোটতাজা করা গরুর ছবি সংগ্রহ করে একটি আইডির মাধ্যমে ছবি দিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করেন তাহলে প্রান্তিক কৃষকরা উপকৃত হবেন।
রিনা এগ্রোর মালিক নাজমুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা সারা বছর অনলাইনে পশু বিক্রি করি। ইতিমধ্যে অনলাইনে ১৪টি কোরবানির পশু বিক্রি করেছি। আমার খামারে ৪০টি কোরবানির পশু বিক্রির জন্য রয়েছে। তবে অনলাইনে পশু বিক্রি করতে গিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অনলাইনের পশু বিক্রি করতে গিয়ে যে পরিমাণ মাংসের কথা বলা হচ্ছে বাস্তবে তার চেয়ে কম ধারণা করা হচ্ছে। আবার বিকাশে ক্রেতার অগ্রিম টাকা পাঠানোর পর অনেক বিক্রেতা ফোন রিসিভ করছেন না। ইতিমধ্যে আমি দুটি অভিযোগ পেয়েছি। তাই ক্রেতাদের সচেতনভাবে অনলাইনে পশু কেনার অনুরোধ করছি।’
চট্টগ্রাম জেলা ডেইরি ফার্মার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালিক মোহাম্মদ ওমর ইত্তেফাককে বলেন, ‘অনলাইনে পশু বেচাকেনার ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইতিমধ্যে অনলাইনে সাতটি পশু বিক্রি করেছি। তবে অনলাইনে ক্রেতারা জেনেশুনে পশু না কিনলে প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অনেক প্রতারক ফেসবুকে আইডি খুলে পশুর ছবি দিয়েছেন। পরে ক্রেতা বিকাশে টাকা পাঠিয়ে তাদের আর খুঁজে পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যে আমরা কয়েকটি অভিযোগ সমিতির মাধ্যমে মীমাংসা করেছি।’
একে এগ্রোর মালিক মো. ইকবাল হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন,‘আমি গত পাঁচ বছর ধরে অনলাইনে পশু বিক্রি করছি। ইতিমধ্যে ১০/১৫ লাখ টাকা গরু বুকিং হয়ে গেছে। দেশে অনলাইনে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পশু বিক্রি হবে। অনেকে অনলাইনে পশু কিনে খামারে যাচ্ছেন না। তাই বেশি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।’
চট্টগ্রামে সাড়ে ৬ লাখের মতো কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। খামারি ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে অনেক কৃষক দুই/তিনটি পশু মোটাতাজা করেছেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘কোরবানির পশুর হাট না বসানো নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মানুষ যেন কম ঝুঁকিতে পশু কিনতে পারেন সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ছোট আকারে খোলা জায়গায় বিভিন্ন স্থানে পশু বিক্রি করা যেতে পারে। খামারিরা তাদের খামার এলাকায় পশু বিক্রি করবেন যাতে এক জায়গায় ব্যাপক জনসমাগম না ঘটে। চট্টগ্রামে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অনলাইনে ১ হাজার ১৩১টি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। প্রতিদিন প্রচুর পশু অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন।’