ঢাকার পর সর্বাধিক মৃত্যু চট্টগ্রামে

দেশে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় নমুনা সংগ্রহ, শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩০৫ জন। শুক্রবারের চেয়ে গতকাল সাত জন কম মারা গেছেন। শুক্রবার ৩৭ জন মারা যান। গতকাল শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।

দেশে করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। নতুন করে মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। ঢাকার পরই সর্বোচ্চ মৃত্যু চট্টগ্রাম বিভাগে। এছাড়া ধীরে ধীরে মৃত্যু বাড়ছে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে। তবে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ এবং পাঁচ জন নারী। এখন পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৮২৪ জন এবং নারী ৪৮১ জন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তা দেড় লাখ পেরিয়ে যায় গত ২ জুলাই। সেদিন ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ। আর ১৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৩০ জুন ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ১৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৬৮৬ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবারের চেয়ে গতকাল ২৬৩ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। শুক্রবার ১৩ হাজার ৪৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ৯৪৯ জন। দেশে এ পর্যন্ত মোট ৯ লাখ ২৯ হাজার ৪৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ লাখ ৮১ হাজার ১২৯ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৪ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে গতকাল শনাক্তের হার ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি। ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে হাসপাতালে ১৮, বাড়িতে ১১ এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন এক জন। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে এক জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিন জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন, রাজশাহী বিভাগে তিন জন, খুলনা বিভাগে তিন জন এবং বরিশাল বিভাগে এক জন রয়েছেন।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৭৫ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ১৪ হাজার ৩৭৭ জনের। শুক্রবারের চেয়ে গতকাল ২ হাজার ৯০২টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৭৭টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১১ হাজার ১৯৩ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ১৩ হাজার ৪৮৮ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের চেয়ে ২ হাজার ২৯৫টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬২৮ জন। শুক্রবারের চেয়ে গতকাল ২৩৪ জন কম সুস্থ হয়েছেন। শুক্রবার সুস্থ হয়েছিলেন ১ হাজার ৮৬২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৪ জন।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘দেশে করোনায় মৃতের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫০ দশমিক ০২ শতাংশ, চট্টগ্রাম ২৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, রাজশাহী ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ, খুলনা ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, সিলেট ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ, বরিশাল ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, রংপুর ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ।’ শনাক্ত বিবেচনায় ৭৯ দশমিক ১৩ শতাংশ পুরুষ ও ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ নারী।