বিনোদন রিপোর্ট
এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে নিয়ে বায়োপিক চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। কপিল দেব থেকে এমএস ধোনি, এমন বেশ ক’জন নামজাদা ক্রিকেটারকে নিয়ে বায়োপিক নির্মাণ করেছে বলিউড। অথচ বাংলাদেশে শুধু ক্রিকেটারই নন, কোনো বরেণ্য তারকার বায়োপিক চলচ্চিত্র নির্মাণের আগ্রহের কথাটিও খুব বেশি প্রকাশ পায়নি।
ক্রীড়ামোদি সিনেমা দর্শকদের এবার সেই আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রকিবুল হাসানকে নিয়ে নির্মিত হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। দেশের প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক, দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র স্পোর্টস রিপোর্টার দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের চিত্রনাট্যে ক্রিকেটার রকিবুল হাসানের বায়োপিক নির্মিত হবে।
সিনেমাটির কাহিনি ও চিত্রনাট্য তৈরি করছেন দেবব্রত নিজেই।
দেবব্রত জানান, সিনেমাটিতে উঠে আসবে ক্রিকেটার ও মুক্তিযোদ্ধা রকিবুল হাসানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছবিটি নির্মাণের পক্ষে গত ১২ জুলাই একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। দেবব্রত মুখোপাধ্যায় ছাড়াও রকিবুল হাসানের বাসায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছবিটির নির্মাতা বান্টি আফজাল এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হাফ-প্যান্ট সিনেমা ফ্যাক্টরির নির্বাহী প্রযোজক রুমানা শারমীন স্বতি।
দেশে প্রথমবারের মতো কোনো ক্রিকেটারকে নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র। এ প্রসঙ্গে দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা আসলে এই ট্রেন্ডের শুরুটা করতে চেয়েছি। আর যেকোনো শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বেছে নিয়েছি ক্রীড়াঙ্গনের এমন একজনকে, যিনি ক্রিকেটার পরিচয়কে ছাপিয়ে মানচিত্রের বিচারে বড় একজন বীর। তিনি শুধু মাঠেই যুদ্ধটা করেছেন তা নয়, তার যুদ্ধটা ছিল পাকবাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও। ফলে এমন একজন জাতীয় বীরকে নিয়ে শুরুটা করতে চেয়েছি। যার ধারাবাহিকতা অন্যরা নিশ্চয়ই পালন করবেন।’
দেবব্রত জানান, এই ছবিতে উঠে আসবে রকিবুল হাসানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ৩টি বছর। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সাল। যে সময়টাতে তিনি ব্যাটের মধ্যে বাংলাদেশে পতাকা বেঁধে মাঠে নেমেছেন ক্রিকেটার হিসেবে। একই সময়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন রাইফেল হাতে। মূলত এই দুটি বিষয় উঠে আসবে চলচ্চিত্রে।
তবে কী ব্যাট আর রাইফেলের গল্পই থাকছে সিনেমাজুড়ে! রকিবুল হাসানের ব্যক্তিগত জীবন বা প্রেমের প্রসঙ্গ থাকছে না? যেহেতু সিনেমা। এ প্রসঙ্গে দেবব্রত বলেন, ‘প্রেম তো প্রাসঙ্গিকভাবেই চলে আসবে। ৩ বছরের গল্প তুলে ধরছি। সেখানে প্রেম, বিরহ, যুদ্ধ—সবই থাকছে। সেভাবেই এগুচ্ছি আমরা।’