ঝিনাইদহে ফাঁকা কোভিড শয্যা!

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে কোভিড-১৯ হাসপাতালের বেশির ভাগ বেড ফাঁকা রয়েছে। করোনা আক্রান্তরা হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতে চিকিত্সা নিচ্ছেন। অনেকে রোগ গোপন করছেন। আক্রান্ত অবস্থায় ঘর থেকে বের হয়ে ঘোরাঘুরি করছেন। এতে সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে।

সিভিল সার্জন অফিসের করোনা বিষয়ক মুখপাত্র ডা. প্রশেনজিত্ বিশ্বাস পার্থ জানান, অব্যহূত শিশু হাসপাতালটি কোভিড-১৯ হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে। এখানে বেড আছে ৫০টি। গতকাল রবিবার রোগী ভর্তি ছিল ২২ জন। ২৮টি বেড ফাঁকা ছিল। এ ছাড়াও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আটটি, শৈলকুপা, কালীগঞ্জ, মহেশপুর ও হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচটি করে করোনা চিকিত্সার জন্য বেড আছে। এসব বেডের অধিকাংশ ফাঁকা। কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রশিদ জানান, এখানে আটটি বেড ফাঁকা পড়ে আছে। মে মাসে মাত্র একজন করোনা রোগী ভর্তি হয়েছিল। আর কেউ ভর্তি হয়নি। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন জানান, গতকাল রবিবার তার হাসপাতালের পাঁচটি বেড ফাঁকা ছিল। এ পর্যন্ত ১৮ জনকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। 

গতকাল রবিবার ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৮ জন, শৈলকুপা উপজেলায় পাঁচ জন ও হরিণাকুন্ড উপজেলায় দুই জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪১৫ জন। আর মারা গেছেন ৯ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৪৩ জন। করোনায় উপসর্গ দেখা দিলেও অনেকে পরোয়া করছে না। নমুনা পরীক্ষা না করিয়ে বাড়িতে থাকছে। অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে যাচ্ছেন। তখন আর করার কিছু থাকে না। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. অপূর্ব কুমার সাহা জানান, শহরের চাকলাপাড়ার শামসুল আলি করোনা উপসর্গ—জ্বর সর্দি কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। এ অবস্থায় ১০-১২ দিন বাড়িতে ছিলেন। শনিবার অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে আনার পথে তিনি মারা যান। সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, অনেকে রোগ গোপন করে বাড়িতে থাকছেন। হাটবাজার ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অবস্থা খারাপ হলে প্রকাশ করছেন। এ সময় আর কিছু করার থাকে না। আবার মৃদু উপসর্গ দেখা দিলে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এতে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে।

জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, মানুষ সচেতন না হওয়ার কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। ঝিনাইদহ শহরের যেসব এলাকায় আক্রমণের সংখ্যা বেশি সেসব এলাকা লকডাউন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কালীগঞ্জ শহরের যে এলাকায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে সেখানেও লকডাউন করা হবে।