করোনাকালে কমছে বিবাহবিচ্ছেদ

তিন মাসে অর্ধেকে নেমেছে তালাকের ঘটনা

নিলয় মামুন

করোনার কারণে যখন পুরো বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও চলছিল লকডাউন, তখন মানুষ ছিল ঘরবন্দি। যার কারণে সবাই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে মানুষের মধ্যে। রাজধানীতে আশঙ্কাজনকহারে দিন দিন বিবাহবিচ্ছেদ বাড়লেও করোনাকালে কমেছে তালাকের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরবন্দি থাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া বেড়েছে। নিজেদের মধ্যে শ্রদ্ধা ও সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তালাকের ঘটনা কমেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার তালাকের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২০ সালে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ—এই তিন মাসে রাজধানীতে তালাকের ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ৯৭৬টি। তবে পরের তিন মাস এপ্রিল, মে ও জুনে তালাকের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৪০টি। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর প্রায় অর্ধেকে কমে এসেছে বিবাহবিচ্ছেদ। দক্ষিণ সিটিতে জানুয়ারিতে তালাকের ঘটনা ঘটে ৫২৮, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪২ ও মার্চে ৪৯২টি। আর করোনাকালে এপ্রিলে সাধারণ ছুটি থাকায় কোনো তালাকই কার্যকর হয়নি। মে মাসে ১১৩ ও জুনে ৪৪১টি তালাকের ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালের শেষ ছয় মাসে দক্ষিণ সিটিতে তালাকের ঘটনা ঘটে ৩ হাজার ৪২০টি। অন্যদিকে ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে তালাকের ঘটনা ঘটে ২ হাজার ১৬টি।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১ হাজার ৫১৪টি তালাকের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৬১৮, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪১ ও মার্চে ৪৫৫টি। এপ্রিলে কোনো তালাক কার্যকর হয়নি। মে মাসে ৫৪ ও জুনে ৬৩২টি তালাকের ঘটনা ঘটে। তবে তালাকের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারীরাই তালাক দিচ্ছেন। দেশে করোনা রোগী প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এই ছুটি ৬৬ দিন স্থায়ী ছিল। যার কারণে বেশির ভাগ মানুষকেই ঘরে থাকতে হয়েছে। এতে নিজেদের মধ্যে মনমালিন্য দূর করে অনেকেই তালাকের পথ থেকে সরে এসেছেন। মিটিয়ে নিয়েছেন নিজেদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজা খানম বলেন, রাজধানীতে কর্মব্যস্ততার কারণে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনারও খুব একটা সুযোগ পায় না। তারা সেই সুযোগটা পেয়েছেন। ভাববিনিময় করতে পারছেন। সমস্যাগুলো তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারছেন। শারীরিক দূরত্বের চেয়ে মানসিক দূরত্ব সংসারে বেশি প্রভাব ফেলে। আবার এমনও দেখা যায়, শারীরিক দূরত্ব থাকলেও মানসিক দূরত্ব না থাকায় অনেকেই ভালো আছেন। করোনার এমন সময়ে একসঙ্গে বাসায় থাকা, কাজ ভাগ করে নেওয়া এক জনের প্রতি আরেক জনের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে।