নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণ মামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাসান আলী বুলু (৬০) পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মোঃ ইলিয়াছ শরীফ জানান, শুক্রবার দুপুর একটার দিকে চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং থানার পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চরজব্বার থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এসপি জানান, ভোটের দিন বুলুর সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর কথা কাটাকাটি হলে বুলু তাকে হুমকি দেয়। এরপর রাতে মামলার প্রধান আসামি সোহেলকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটায় বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে। বুলু সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের ব্যক্তিগত সহকারী।
এর আগে ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে চট্টগ্রামের নাজিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার আরেক আসামি জসিম উদ্দিনকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশ। জসিম সুবর্ণচরের চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের মোতাহের হোসেনের ছেলে। জসিম পেশায় কলা বিক্রেতা। ঘটনার পর সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। মামলার তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জসিমের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে রাতেই চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে অভিযানে নামে চরজব্বার থানা পুলিশের একটি টিম।
এ নিয়ে এই মামলায় মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হলো। তাদের মধ্যে একজন সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। চারজন ইটভাটা শ্রমিক একজন ইটভাটার মাঝি। মামলার অপর আসামিদেরকে ধরার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। এই মামলায় দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানান এসপি।
এদিকে ভুক্তভোগীকে দেখতে শুক্রবার দুপরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে যান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের সবাইকে গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার আইনে মামলা নিষ্পত্তির দাবি জানান।
ভুক্তভোগী ওই নারীর যাবতীয় চিকিত্সা ব্যয়, পরিবারের পুনর্বাসন ও সকল আইনী সহায়তার দায়িত্ব নিয়েছে সদর সুবর্ণচর আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। শুক্রবার বিকেলে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে ভুক্তভোগীর সঙ্গে দেখা করে এ কথা জানান। এ সময় সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত রবিবার রাতে চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের সোহেল, হানিফ, স্বপন, চৌধুরী, বেচু, বাসু, আবুল, মোশারেফ ও ছালাউদ্দিন ৪০ বছর বয়সী এক নারীর বসতঘর ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে তারা ওই নারীর স্বামী ও মেয়েকে বেঁধে রেখে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে গণধর্ষণ করে ও পিটিয়ে আহত করে। পরদিন ওই নারী ও তার স্বামীকে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী ৯ জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর ডাক্তারী পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেয় মেডিক্যাল বোর্ড।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মানুষের জমি দখল, সরকারি জমি দখল ও গাছ চুরির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কোনো ঘটনায় সালিশের ক্ষেত্রে উভয়পক্ষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।