আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে সেটা তাদের সম্মান করা উচিত। গতবারও তারা নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল করেছে সেই ভুলের চোরাবালিতে তারা এখনো আটকে আছে। এবার যদি একই ভুল করে, কিছু আসনে জয় পেয়েও যদি তারা সংসদে যোগ না দেয়, তাহলে এই ব্যর্থতা আর ভুলের চোরাবালিতে তাদেরকে আটকেই থাকতে হবে। গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পার্টির পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ করেছি, তাদের অনুরোধ করছি জনগণের রায়কে অসম্মান করা উচিত নয়’। ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বৈঠক বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কেন, বৈঠক করলে কী অসুবিধা। বৈঠক তো করতেই পারে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করলে কি আকাশ ভেঙে পড়বে আমাদের উপর।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নবীন প্রবীণের সমন্বয়ের আওয়ামী লীগের পথ চলা। তবে বিশাল বিজয়ের সঙ্গে বিশাল চমকও থাকতে পারে। আমার মনে হয় মন্ত্রিসভায় বিশাল একটা চমক আসবে। তবে সবই শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ব্যাপার।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে শেখ হাসিনা ম্যাজিক। এটা আমাদের লিডারের প্রতি জনগণের, তার উন্নয়ন, তার রাজনীতি, তার স্বচ্ছতা, তার সততা, তার যোগ্যতা, দক্ষতার প্রতি জনগণের সমর্থন। ভোটে কারচুপি নিয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এসব বিরোধী দলসুলভ। নির্বাচন পরবর্তী যে সিনারিও, হেরে গেলে যে সিনারিও, যে দৃশ্যপট জন্ম নেয়, সেই দৃশ্যপটেরই পুনরাবৃত্তি আমরা বার বার দেখি। এটা এক সময় থেমে যাবে। কারণ বাংলাদেশের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে উন্নয়নের পক্ষে, আমাদের নেত্রীর ব্যক্তিগত সততা ও ক্যারিশমার পক্ষে।’
ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগ সুনামের ধারায় থাকুক, সেটিই চাই। ছাত্রলীগের যে ঐতিহ্য, ইতিহাস, সংগ্রাম গৌরবের সেই ইতিহাস ঐতিহ্যকে চেতনায় ধারণ করে ছাত্রলীগ আজকে সময়ের চাহিদা পূরণে দায়িত্ব পালন করবে।’ ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে সংগঠিত করবে উন্নয়নের চাকাকে সচল রাখার জন্য। সেখানে অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের শক্তি কাজে লাগাবে। ছাত্রলীগ তারুণ্যের প্রতীক। তরুণ সমাজকে সংগঠিত করবে, আমাদের চলমান উন্নয়নের চাকাকে সচল রাখবে।’
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নীতি-আদর্শকে চলার পথে পাথেয় করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তার নীতি, আদর্শ, বিনয়, চরিত্রের যে গুণাবলি, সেগুলো আমাদের পাথেয় হবে। তার মৃত্যুতে আমাদের যে ক্ষতি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আমরা শোকাহত, গোটা আওয়ামী লীগ পরিবারে শোকের ছায়া। সজ্জন এবং একজন ভালো মানুষ ছিলেন তিনি। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে সর্বমহলে তার একটা সুনাম ছিল, আমাদের দলের সীমানা পেরিয়ে।’
সৈয়দ আশরাফের অবদানের কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বলেন, লন্ডনে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানার সঙ্গে সেই বড় দুঃসময়ের দিনগুলো কাটিয়েছেন তিনি। পর পর দুই বার পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দুঃসময়ে পার্টির হাল ধরেছিলেন, শক্ত হাতে দলকে সংগঠিত করেছেন। সীমাহীন গভীর কমিটমেন্ট নিয়ে।’
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সাথে সহযোগী সংগঠনের যৌথসভা আজ
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সাথে সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্যদের সাথে এক যৌথসভা আজ শনিবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।