রংপুর অঞ্চলে শীতের তীব্রতা ক্রমন্বয়েই বাড়ছে। আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ রোগীর সংখ্যাও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কনকনে ঠান্ডা বাতাসে দরিদ্র মানুষের জীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ঠান্ডায় বিপাকে পড়েছে সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র পরিবারগুলো। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় খড়-কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে পরনের কাপড়ে আগুন লেগে শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধ হয়ে গত তিনদিনে তিন নারীর মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন- লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার রাজিয়া বেগম (২৭), একই জেলার আদিতমারীর মোমেনা বেগম (৩২) ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর স্বপ্না রানী (৩৪)। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছে তারা।
এছাড়া রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে আরো ২৫ জন। অগ্নিদগ্ধরা হলেন, সাহারা বেগম (৪৫), সাজেদা (২০), লুবনা আক্তার (৮), তাওমিক (১৪), আসিফা (৪ মাস), শামিম (৪), নিলয় বাবু (৪)। এদের মধ্যে অন্তত পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিত্সক। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন অগ্নিদগ্ধ রোগী ৬নং ওয়ার্ড, ১৬নং ওয়ার্ড ও ১৮নং ওয়ার্ডে ভর্তি আছে।
রংপুর অঞ্চলে গত এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠা-নামা করছে। একদিকে তীব্র শীত, অন্যদিকে কনকনে বাতাস শীতের তীব্রতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে গিয়ে গত তিন দিনে আগুনে অন্তত ২৫ জন নারী ও শিশু দগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার বিকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে বিছানায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সার্জিকাল ওয়ার্ডের বারান্দায় রাখা হয়েছে রোগীদের। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী এলাকার অগ্নিদগ্ধ লাবন্য বেগম জানান, তীব্র শীতের কবল থেকে বাঁচতে ধানের খড় দিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানতা বশত পরনের ম্যাক্সির পেছনে আগুন লেগে যায়। এতে তার কোমরের নিচ থেকে পা পর্যন্ত ঝলসে গেছে। একই কথা জানালেন রংপুর সদরের মমিনপুর গ্রামের অগ্নিদগ্ধ জরিনা বেগম।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম জানান, শীতের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আগুন পোহানোর সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে গত বছর ১২ জন মারা যান। এ বছরও প্রতিদিনই রোগী আসছে। যে হারে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে করে এ বছর শীতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওয়ার্ডে মোট বেড সংখ্যা ২৬টি। অথচ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে ফ্লোরে রাখতে হচ্ছে। রোগীদের বেশির ভাগেরই শরীরের নিচের অংশ ৩০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত আগুনে ঝলসে গেছে। এদের মধ্যে পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এছাড়া আগুনে পোড়ার প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। হতদরিদ্র রোগীর স্বজনরা প্রয়োজনীয় ওষুধও কিনতে পারছেন না।