সদ্য শেষ হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম চলার সময় (১-৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত) সাধারণ মানুষের সহায়তায় সারাদেশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে ৬৭৯টি সম্ভাব্য হানাহানির ঘটনা। দুই পক্ষের চরম উত্তেজনার মুহুর্তে সচেতন মানুষ পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ হটলাইন নাম্বারে টেলিফোন করে ঘটনাগুলো অবহিত করে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। এসব ঘটনার সিংহভাগই শহর ও শহরতলি এলাকায়। একমাসে সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছে ২০ জন। দু’পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে প্রায় চার শতাধিক।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, নির্বাচনের সময় রাজধানীতে খুব বড় ধরনের একটা সহিংসতা বা মারামারি ঘটনা ঘটেনি। যা ঘটেছে তার একটি বড় অংশ ঘটেছে সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, ফরিদপুর, নোয়াখালি, ফেনী, বগুড়া, দিনাজপুর ,খুলনা দেশের বেশ কয়েকটি শহর ও শহরতলি এলাকায়। এগুলো পুলিশের ৯৯৯ সার্ভিসে জানানোর আগেই সংগঠিত হয়েছে।
পুলিশ প্রধান (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণেই নির্বাচনী সহিংসতা কম হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। আর এ জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেছে দেশের সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, প্রানহানির ঘটনা দুঃখজনক। তবে অতিতের অনুষ্ঠিত যে কোন নির্বাচনে হানাহানি ও প্রানহানির ঘটনা তুলনামুলক ভাবে এবার কম হয়েছে।
অপর দিকে জরুরি জাতীয় সেবা ৯৯৯-এর দায়িত্ব প্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এসপি) তবারক উল্লাহ নির্বাচনের মাস ডিসেম্বরে রাজনৈতিক হানাহানি প্রতিরোধ নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ সার্ভিস সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের আস্থা জায়গা তৈরি করতে পেরেছে। বাংলাদেশ পুলিশের অনেক ইউনিট আছে । কিন্তু এ ইউনিট শুরুতেই অনেক সফল। মানুষ সচেতন হলে এই জরুরি সেবার ব্যবহার আরো বাড়বে। তিনি বলেন,আমরা মানুষকে টানা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সবচেয়ে সুখের কথা ৯৯৯ সেবা চালু হবার পর থেকে ( এক বছর আগে) বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আমাদের বিভিন্ন ঘটনা (কোনো অপরাধ, প্রাননাশের আশংকা, হতাহতের ঘটনা, দুর্ঘটনাসহ আ্যাামু্বলেন্স প্রয়োজন হলে) ফোন দিয়ে সেবার জন্য অনুরোধ করছে। তাদের আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছি।
তবে প্রান্তীক জনগোষ্ঠির মাঝে এই জরুরি নাম্বারের ব্যবহার অনেক কম। তিনি বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য পুলিশের জরুরী সেবা সার্ভিস ৯৯৯ । আমাদের টার্গেট হচ্ছে শহর-গ্রাম সবাইকে ৯৯৯ দিয়ে সমানভাবে সেবা প্রদান।