গফরগাঁওয়ে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
গফরগাঁও পৌর শহরের মেয়েদের একমাত্র স্কুল খায়রুল্লাহ সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ৫টি শ্রেণির ১০টি শাখায় মোট শিক্ষার্থী প্রায় সাড়ে আট’শ। তাদের লেখাপড়া করানোর জন্য সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ২৬ জন শিক্ষক থাকার কথা, কিন্তু সেখানে পদ সৃষ্টি রয়েছে ১৬টির। কিন্তু এর মধ্যেও ৪টি পদ শূন্য রয়েছে। খায়রুল্লাহ সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়টিতে অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী পদ সৃষ্টি না করায় এবং পদ শূন্য থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পাঠদান।
ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়টি ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৫ সালে জাতীয়করণ করা হয়। কিন্তু সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করা হয়নি। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী এ সরকারি হাই স্কুলে শিক্ষক পদের সংখ্যা ২৬টি হলেও বর্তমানে পদ রয়েছে ১৬টি। কর্মচারীর ৭টি পদের মধ্যে রয়েছে ৬টি। একাডেমিকের ১০টি এবং কর্মচারীর ১টি পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এদিকে বিদ্যালয়ে সৃষ্ট শিক্ষক পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ ৪টি শিক্ষক পদ ও একটি কর্মচারী পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে ১০টি শাখার সাড়ে আট’শ ছাত্রীকে পাঠদানের জন্য বাংলা বিষয়ের কোনো শিক্ষক নেই। কম্পিউটার শিক্ষকের কোনো পদ না থাকায় এ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞানার্জন থেকে অনেক পিছিয়ে। ধর্মীয় শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আইসিটি পাঠদান করানো হয়। বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা জানান, সুষ্ঠু পাঠদান এবং সৃজনশীল পদ্ধতি ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে ছাত্রীদের পাঠদানের জন্য অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী এ বিদ্যালয়ে পদ সৃষ্টি ও জরুরিভিত্তিতে শূন্য পদ পূরণ করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে খায়রুল্লাহ সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একেএম মফিজুল হক বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ময়মনসিংহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন নতুন নিয়োগ না থাকায় শুধু এ স্কুল নয় অনেক সরকারি হাই স্কুলে শিক্ষক সংকট আছে, পিএসসির মাধ্যমে নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।