রেস্টুরেন্টের ভ্যাট ফাঁকির গোপন  তথ্য ইলেকট্রিক মোটর কারখানায়!

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি ইলেকট্রিক মোটর কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল অঙ্কের ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ফাঁকির সন্ধান মিলেছে। তবে চমকপ্রদ তথ্য হলো, ওই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে রক্ষিত ফাইল তল্লাশি করে পাওয়া গেল একই মালিকের গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টের বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির তথ্য। 

ওইসব ফাইল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি যে পরিমাণ বিক্রি করেছে, সরকারকে দেখিয়েছে তার এক পঞ্চমাংশ। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগ অভিযান চালিয়ে ভ্যাট ফাঁকির এসব তথ্য উদ্ঘাটন করেছে।  

ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কম্পিউটারে রক্ষিত ওইসব গোপন নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রেস্টুরেন্টটিতে ৭৮ লাখ টাকার উপরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। এই বিক্রির উপর ১৫ শতাংশ হিসেবে ক্রেতার কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা আদায় করার কথা। কিন্তু আলোচ্য সময়ে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ভ্যাট বিভাগকে মাত্র ১৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা বিক্রি দেখিয়ে সরকারের ঘরে জমা দিয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। 

ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান ইত্তেফাককে বলেন, আলোচ্য সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করলেও তা সঠিকভাবে সরকারকে জমা দেয়নি। তিনি বলেন, এই হিসাবে গত তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট হওয়ার কথা প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা। কিন্তু তারা হয়তো সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। 

আরো পড়ুন :  চার ব্যাংক থেকে সাহেদের সব ধরনের নথি তলব

ভ্যাট ফাঁকির এটি একটি ছোট উদাহরণ বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, রেস্টুরেন্টের মালিক নিজাম উদ্দিনকে জবাব দেওয়ার জন্য ভ্যাট গোয়েন্দা অফিসে তলব করা হলেও তিনি সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।  

সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য ঢাকার ভ্যাট উত্তর কমিশনারেটকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া মোহাম্মদপুরে একই মালিকের নিজাম ইলেকট্রিকের গুদামে ইলেকট্রিক মটর তৈরির কাঁচামালের সঙ্গে উৎপাদিত পণ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এতে প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা বিভাগ। ফাঁকির অভিযোগে উভয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইউবি