রাউজানে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাতে জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের জিয়াবাজার নামক স্থানে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের উপর এই ঘটনাটি ঘটে।
ছুরিকাঘাতের পর গুম হওয়া ব্যক্তির নাম নুরুল আলম (৬০)। তিনি একই ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের করম আলী হাজীর বাড়ীর সুলতান আহমদের পুত্র।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার সকাল ৭ টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে উরকিরচর বাজারে যান নুরুল আলম। এ সময় চারটি মোটরসাইকেলে আসা মুখোশ পরিহিত ৬-৭ জনের এক দুর্বৃত্তের দল তাকে সড়কের ওপড় আটকিয়ে ছুরিকাঘাতে জখম করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় একটি অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এদিকে তার পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ নানা স্থানে খোঁজ নিয়ে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার কোনো হদিস পায়নি বলে জানিয়েছে। তার ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
দুপুর ১২টায় সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কাপ্তাই সড়কের ওপর ওই বাজারের সড়কের একপাশে রক্তাক্ত দুটি স্যাণ্ডেল পড়ে আছে। সড়কের ওপর প্রচুর ছোপ ছোপ রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বাজার থেকে উত্তরদিকে যে পিচঢালা সড়কটি উরকিরচর গ্রামের দিকে গেছে সেই সড়কের উপর ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এক অটোরিকশা চালক বলেন, 'সকালে ওই ব্যক্তিকে কুপিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন কিছু দুর্বৃত্তকে।'
ওই ব্যক্তির স্ত্রী নুর বানু বলেন, 'গত রমজান মাসে তার বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছিল কিছু দুর্বৃত্ত। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার বাড়ি ভাংচুর করে নগদ ২ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এরপর স্থানীয় কিছু যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর শত্রুতা সৃষ্টি হয়। শনিবার বিকেলে অভিযোগ দিতে থানায় গেলে ওসি না থাকায় মামলা করতে পারেননি। তবে ওসি থানায় এলে তাকে আসতে বলেছেন কর্তব্যরত কর্মকর্তা।'
উরকিরচর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য মুহাম্মদ সেলিম বলেন, 'ছয় মাস আগে ইউনিয়ন যুবলীগের সহ সভাপতি মুহাম্মদ আবুকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে দুইমাস কারাগারে ছিলেন নুরুল আলম। কিছুদিন আগে তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে মুক্ত হয়ে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।'
নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস. আই শেখ জাবেদ মিয়া বলেন, 'ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখে গেছে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। তবে এখনো তার খোঁজ পাইনি। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ এখনও তৎপর রয়েছে।'
আরও পড়ুনঃ বরেন্দ্র অঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত
নুরুল আলম বিগত ৩ বছর পূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাস জীবন শেষ করে দেশে ফিরে আসেন। এরপর তিনি একটি ট্রাক কেনেন। ট্রাকের ভাড়া হতে আয় দিয়ে সংসার চালাতেন। বর্তমানে তার দুই ছেলে ওমান প্রবাসী।
ইত্তেফাক/নূহু