সীতাকুণ্ডে ২ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে শিম চাষে বাম্পার ফলনের কারণে প্রত্যন্ত এলাকায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এবার শিম মৌসুমে কৃষকরা তাদের জমিতে, জমির আইলে, খালের পাড়ে, বেড়িবাঁধের দুইপাশ, পাহাড়ে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু’পাশসহ সব জমিতেই শিমের চাষ করা হয়। তাই দেখলে মনে হয় সীতাকুণ্ড এক শিমের রাজ্য! এদিকে, বাজারে কিছু কিছু শিম উঠার কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে পেয়ে খুশি। আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বাজারের সাপ্তাহিক হাটগুলো থেকে শিম কিনে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নিয়ে যায়। পৌরসভাস্থ নুনাছড়ার কৃষক শরীফুল্লাহ বলেন, এবারো শিম চাষ লাভজনক হয়েছে। এই চাষে তিনি মাত্র ৩ মাস সময় দিয়ে ভালো আয় করেছেন বলে জানান। তবে চলতি মাসের শুরুতে দু’দিনের বৃষ্টির কারণে শিম গাছের ফুল ঝরে এবং শিমের ওপর কালচে ধরনের দাগ পড়ে। তা না হলে ফলন আরও ভালো হতো।
এক সময় ধানের ব্যবসায়ী কাশিনাথ দাশ (৪২) এখন শিম চাষ করে ভালোই সংসার চালান। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে দুই জাতের শিমই বেশি হয়। “কাত্তি কোটা” আর “ছুরি” শিম। একটি লাল, অন্যটি সবুজ-সাদা ও লম্বাটে। তাই সীতাকুণ্ডের শিম দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে এখন বিদেশেও রপ্তানি হয়।
এবার অত্র অঞ্চলে ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ করা হয়েছে, প্রতি হেক্টরে ৩০ টন করে প্রায় ৮৪ হাজার টন শিম উত্পাদন হবে বলে কৃষি বিভাগ উপ-সহকারী কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ জানান। তা ছাড়া কৃষকরা শিমের মৌসুমে ল্যাইটা, বাইটা, পুঁটি ও ছুরি এ চার জাতের শিম রোপণ করে থাকে। আর এ শিমের মধ্যে ল্যাইটা শিম এখানে বেশি ফলন হয়ে থাকে। উপজেলায় ৫ হাজারের বেশি চাষি শিম চাষ করে এবং ১ নং সৈয়দপুর ইউনিয়ন থেকে ৭ নং কুমিরা ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যন্ত শিম সর্বাধিক উত্পাদন হয়। পাহাড়ি এলাকা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু’ধারে আরও ৫ হাজার টনের অধিক শিম উত্পাদন হয় যা কৃষি বিভাগের হিসাবে নেই।
কীটনাশক বিক্রেতা মেসার্স রিজভী ট্রেডার্সের মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, বাজারে অনেক নিম্নমানের ও নকল ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। আসল ওষুধ দেওয়ার ব্যাপারে চাষিদের সঠিক মাত্রাজ্ঞান না থাকার কারণেও সময়মতো ওষুধে কাজ করে না। আবার অনেক সময় একটি ওষুধ প্রয়োগ করে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা না করে আরেকটি ওষুধ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা খান মো. সালেহীন জানান, কৃষকরা জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে শিমের গুণাগুণ হ্রাস পায়। এজন্য শিম চাষিদেরকে কৃষি বিভাগ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়।