চ্যাম্পিয়নদের হারে শুরু বিপিএল

উদ্বোধনী ম্যাচেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঘায়েল— কোনো টুর্নামেন্ট শুরুর রোমাঞ্চকর দৃশ্যের একটি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) যে দৃশ্যের মঞ্চায়ন অব্যাহত আছে। সর্বশেষ তিন আসরেই আগের আসরের চ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্ট শুরু করেছে হার দিয়ে।

২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স পরের আসরের প্রথম ম্যাচই হেরেছিল। ২০১৬ সালের শিরোপা জয়ী ঢাকা ডায়নামাইটসও পরের বছর হেরে শুরু করেছিল বিপিএল। ২০১৭ সালে ট্রফি জিতেছিল রংপুর রাইডার্স। গতকাল টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে রংপুরের বিরুদ্ধে চিটাগং ভাইকিংসের তিন উইকেটের হারেও বহাল থাকলো বিপিএলের শুরুতে চ্যাম্পিয়নদের ঘায়েল হওয়ার ঘটনা।

মিরপুর স্টেডিয়ামে গতকাল বেলুন-কনফেত্তি উড়িয়ে বিপিএলের উদ্বোধন করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তারপর লো স্কোরিং ম্যাচে মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুরকে হারিয়েছে মুশফিকুর রহিমের চিটাগং। প্রথমে ব্যাট করে ৯৮ রানে অলআউট হয় রংপুর। বোলারদের কল্যাণে ম্যাচটা বেশ জমিয়ে ফেলেছিল রংপুর। তবে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও অপরাজিত ১২ রান করে ৫ বল বাকি থাকতে চিটাগংকে জয় এনে দেন রবি ফ্রাইলিঙ্ক। ১৯.১ ওভারে ৭ উইকেটে ১০১ রান করে চিটাগং। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ফ্রাইলিঙ্ক ম্যাচ সেরা হন।

টসে হেরে ব্যাট করা রংপুরকে কাঁপিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রাইলিঙ্ক ও আবু জায়েদ রাহী। তাদের তোপে ৩৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে রংপুর। অষ্টম উইকেটে রবি বোপারা ও সোহাগ গাজী কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তাদের ৪৯ রানের জুটিই লজ্জা থেকে বাঁচায় রংপুরকে। ২১ রান করে সোহাগ গাজী ফ্রাইলিঙ্কের চতুর্থ শিকার হন। সর্বোচ্চ ৪৪ রান করে ফিরেন রবি বোপারা। এর বাইরে দলের আর কেউ দু’অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। ফ্রাইলিঙ্ক ১৪ রানে চারটি, রাহী-নাঈম হাসান দুটি করে, খালেদ আহমেদ একটি করে উইকেট পান।

পাঁচ বছর পর বিপিএলে আশরাফুলের প্রত্যাবর্তনটা খুব আলোকিত হয়নি। প্রতিপক্ষকে আশরাফুলের জার্সি নম্বরে (৯৮) আটকে দিয়ে সহজ জয় পায়নি। ৯৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে বারবারই হোঁচট খেয়েছে মুশফিক বাহিনী। ডেলপোর্ট মাশরাফির শিকার হলে উইকেটে আসেন আশরাফুল। বন্ধু মাশরাফির করা প্রথম বল থার্ড ম্যানে ঠেলে দিয়ে রানের খাতা খুলেছিলেন। প্রান্ত বদলের সময় দুই বন্ধুতে কিছুটা খুনসুটিও হয়েছিল। কিন্তু ৩ রানেই থেমেছেন আশরাফুল।

শাহজাদের ২৭, মুশফিকের ২৫ রানের পরও চাপে পড়ে গিয়েছিল চিটাগং। শেষ দিকে নাঈম হাসানের ১০, ফ্রাইলিঙ্কের অপরাজিত ১২ ও সানজামুলের অপরাজিত ৭ রানে জয় নিশ্চিত করে মুশফিকের দল। রংপুরের মাশরাফি দুটি, শফিউল, নাজমুল অপু, বেনি হাওয়েল ও ফরহাদ রেজা একটি করে উইকেট নেন।

তবে ম্যাচ শেষে মিরপুরের উইকেট নিয়ে ভালো মন্তব্য করেননি সংবাদ সম্মেলনে আসা দুই দলের প্রতিনিধি। চিটাগংয়ের ফ্রাইলিঙ্ক বলেছেন, এটি ১২০-১২৫ রানের উইকেট। যা টি-২০ ফরম্যাটের সঙ্গে সত্যিই বেমানান।

রংপুরের রবি বোপারা উইকেট নিয়ে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় ১৩০ চ্যালেঞ্জিং স্কোর হতো। নিজের মতো শট খেলার জন্য এই উইকেট খুবই কঠিন। মিরপুরে উইকেট খুবই রহস্যময়। আমরা জানি চট্টগ্রাম ও সিলেটে স্কোর বেশ বড় হবে। ১৭০ থেকে ২০০ রান করতে পারবেন।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ৯৮। চিটাগং ভাইকিংস: ১৯.১ ওভারে ১০১/৭

ফল: চিটাগং ভাইকিংস তিন উইকেটে জয়ী