কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে বগুলাগাড়ী সারোভাষা ব্রিজ। বালু ব্যবসায়ীরা দিনে ও রাতে ব্রিজের দুইপাশে পাঁচশ’ গজের মধ্যে ও ব্রিজের নিচ থেকে মাহিন্দ্র ট্রাক্টর দিয়ে বালু উত্তোলন করায় ব্রিজের পূর্ব কোণে অ্যাপ্রোচ ধসে গেছে। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে ব্রিজটি। এলাকাবাসীর অভিযোগ- ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্রিজের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে পাঁচশ’ গজ সীমানার মধ্যে ও ব্রিজের নিচ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। ফলে ব্রিজের নিচের বালু সরে গিয়ে ব্রিজের পূর্ব কোণের অ্যাপ্রোচ ধসে গেছে। এতে হুমকির মুখে রয়েছে ব্রিজটি। ফলে যে কোনো মুহূর্তে ব্রিজটির বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
ব্রিজের দক্ষিণ পাশ থেকে বালু উত্তোলনকারী হানিফ ও কিবরিয়া বলেন, ভাই আমরা নিজের জমি থেকে বালু উত্তোলন করছি। আমাদের জমিগুলো ব্রিজের কাছাকাছি। গত কয়েক বছর আগে আমরা সেগুলো চাষাবাদ করেছিলাম। কিন্তু বর্তমানে সব কাগজপত্র ঠিক করে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বালু বিক্রি করছি। এতে টাকাও পাচ্ছি, জমিও বালুমুক্ত হচ্ছে। অপর বালু ব্যবসায়ী হাফেজ ও ইব্রাহিম বলেন, সবার আগে কাশেম ব্রিজের নিচ থেকে বালু উত্তোলন শুরু করে। আমরা ব্রিজের অনেক দূর থেকে বালু উত্তোলন করছি। তাতে ব্রিজের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ব্রিজের নিচ থেকে এবং ব্রিজের উত্তর পাশ থেকে বালু উত্তোলনকারী বালু ব্যবসায়ী কাশেম বলেন, ভাই আমি যেভাবে বালু তুলছি তাতে ব্রিজের কোনো ক্ষতি হবে না।
চাঁদখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ব্রিজের পূর্বদিকে অ্যাপ্রোচ ধসে গেছে। কে কে বালু উত্তোলন করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারা বালু উত্তোলন করছেন আমি জানি না। তবে ব্রিজটি রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারকে বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সারোভাষা ব্রিজের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি আপনি আমাকে আরো আগে বলতে পারতেন। তবে তিনি আরো বলেন, কয়েকদিন আগে বাহাগিলি স্টিল ব্রিজের নিচ থেকে বালু উত্তোলনের সময় সেখানে অভিযান চালালে সবাই পালিয়ে গেছে। ব্রিজ রক্ষার স্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে।