নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অপশক্তিকে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অপশক্তিকে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ। এবারের নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ১৯৭০ সালের মতো জাগরণ তৈরি হয়েছে। মানবিক দেশ গড়তে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নতুন সরকারকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সমপ্রীতির নির্বাচন, নতুন সরকার ও আগামী দিনের প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘সমপ্রীতি বাংলাদেশ’।

আওয়ামী লীগ ঘোষিত ইশতেহার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে নতুন সরকারকে আহ্বান জানিয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, আমি প্রথম কথায় বলব, ইশতেহারের প্রতিটি বিষয়ের জন্য মনিটরিং টিম, চেক আউট লিস্ট থাকতে হবে। ৫০ দিনের কাজ, ১০০ দিনের কাজ সব ঠিক করে নিতে হবে।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগকে নিয়ন্ত্রণ করার অনুরোধ জানিয়ে মাহফুজা খানম বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীদের ছেড়ে দিলে চলবে না। এদের কন্ট্রোল করা প্রয়োজন। আমি চাই, তারা মানুষ হোক। তারা অন্তত বিবেকবান মানুষ হোক। একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নের পাশাপাশি নারী, শিশু ও যুবনীতি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান অধ্যাপক মাহফুজা খানম।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, দুর্নীতি হয়তো পুরোপুরিভাবে সমূলে উত্পাটন করা সম্ভব হবে না। তবে এটাকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। নতুবা সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, এবারের নির্বাচনে সব চক্রান্ত, ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করে এক এসিড টেস্টে উত্তীর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ। যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, তার বিরোধী রাজনীতি করে, তাদের সেই রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

এবারের নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনে বিএনপি যে প্রার্থী তালিকা প্রণয়ন করেছিল, তা আইএসআই মনোনীত ও লন্ডন থেকে অনুমোদিত।

সভা-প্রধানের বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক নাট্যজন পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে আমরা ঘুরেছি। আমরা চেয়েছিলাম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, মানবিক দর্শনের মানুষ এবারের নির্বাচনে জঙ্গিবাদী-সাম্প্র্রদায়িক শক্তিকে রুখে দিক। আমরা এবারের নির্বাচনে তা পেয়েছি।

আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক নারী নেত্রী রোকেয়া কবির, উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংগঠক অ্যারমা দত্ত, অর্থনীতিবিদ আর এম দেবনাথ, অধ্যাপক ড. অসীম কুমার সরকার, অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.), মতিউর রহমান লালটু, অধ্যাপক অরুণ গোস্বামী, ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, সাংবাদিক শরীফ শাহাবুদ্দীন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সাংবাদিক রহমান মুস্তাফিজ প্রমুখ।