চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীরকে স্মরণ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীরের সকল সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার নামে ফাউন্ডেশনসহ নানা পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যেই শিল্পকলাসহ সরকারের সঙ্গে কথা হচ্ছে বলেও জানানো হয়। সদ্য প্রয়াত এই চিত্রকর স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব জানানো হয়।
গতকাল শনিবার বাদ আছর মোহাম্মদপুরের বাসভবনে সৈয়দ জাহাঙ্গীরের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান হয়। দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজন এতে উপস্থিত ছিলেন। মহান এ শিল্পীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, সাবেক প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডের চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ, শিল্পী রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, নিসার হোসেন, গৌতম চক্রবর্তী, মুনীরুজ্জামান, শেখ আফজাল, আহামেদ শামসুদ্দোহা, নাসিম আহমেদ নাদভীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সৈয়দ জাহাঙ্গীর ও আমি সমবয়সী। তার সঙ্গে পরিচয় ষাটের দশকে। তিনি যখন রাওয়ালপিন্ডিতে ছিলেন তখন তার আড্ডাখানায় অনেক কথা হতো। যার বেশিরভাগই ছিল দেশের নানা সমস্যা ও শিল্প সাহিত্য নিয়ে। অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন তিনি।
স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেন, তার সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পরে চট্টগ্রামে। তারপর একসঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। তার বন্ধুত্ব ছিল অতুলনীয়। রফিকুন নবী বলেন, তাকে কখনো দুঃখভারাক্রান্ত দেখিনি। ছোটদের সঙ্গেও তিনি বন্ধুর মতো মিশতেন। তিনি শুধু শিল্পী ছিলেন না। খুব ভালো লিখতেন। ইসলামাবাদে একসময় তিনি বাংলায় খবর পড়তেন। একাধারে ইংরেজি, বাংলা ও পোস্তু ভাষায় দক্ষ ছিলেন। তার সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা শিল্পীরাও কথা বলব।
পরিবারের পক্ষ থেকে সৈয়দ জাহাঙ্গীরের জামাতা শেখ শফি আহমেদ বলেন, তিনি গ্রাম খুব ভালোবাসতেন। তার সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণে আমরা শিল্পকলাসহ শিল্পী সমাজের সকলের সঙ্গে বসে আলাপ করব। তিনি নিজেও আমাদের নানা বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।