ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছে স্বপ্নের বিনির্মাণ। নদী শাসন ও পাইলিংয়ের পর উঠতে শুরু করেছে পিলার। আর নির্মাণ স্থলে স্প্যান বসানোর পর বোঝা যাচ্ছে কেমন হবে খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের রূপসা রেল সেতুর অবয়ব। মোট সেতুর ৩০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
রূপসা রেল সেতুর পশ্চিম পাড় বটিয়াঘাটা উপজেলার পুটিমারী ও পূর্ব পাড় খারাবাদ এলাকায় দিন-রাত অবিরাম চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। সেতু এখন স্বপ্নের খোলস থেকে বেরিয়ে রূপ নিয়েছে দৃশ্যমান বাস্তবতায়। কর্মী, শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের কাজের শব্দে মুখর এলাকা।
দিন যতই যাচ্ছে রূপসার বুকে একের পর এক খুঁটি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শুরু করেছে। নদীর প্রবল স্রোত উপেক্ষা করে উভয় প্রান্তে চলছে নির্মাণযজ্ঞ। এখন কেউ এসে নদীর তীরে দাঁড়ালেই দেখতে পাবেন সেতুর অবয়ব। ধাপে ধাপে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে খুলনার মানুষের স্বপ্নের রূপসা রেল সেতু।
পাইল স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী সব যন্ত্রপাতি। পুরোদমে পাইল স্থাপন ও পিলার তৈরির কাজ চলছে। ২০২০ সালের মার্চ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষে খুলনা ও মোংলা বন্দর যুক্ত হবে সারা দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, সেতু নির্মাণে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে রূপসা নদীর দুই পাড়ে। নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে বাংলাদেশে প্রথম সুপার স্ট্রাকচারের রেল সেতুর নির্মাণ কাজ। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জানা যায়, ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন করে। পরে ২০১২ সালের নভেম্বরে প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পায় ভারতের সিইজি নিপ্পন কোয়ি জেভি প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর রূপসা রেল সেতুর পাইলিংয়ের কাজের উদ্বোধন করেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন।
খুলনা-মোংলা রেলপথ প্রকল্পটির কাজ তিনটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি রেল সেতু, অপরটি রেল লাইন এবং অন্যটি টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিং। খুলনার ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত আটটি স্টেশন হচ্ছে। স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুলতলা, আড়ংঘাটা, মোহাম্মদনগর, কাটাখালী, চুলকাঠি, ভাগা, দিগরাজ ও মোংলা। খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮০১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে রেললাইনের জন্য ১ হাজার ১৪৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এবং সেতুর জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বাকি টাকা জমি অধিগ্রহণে ব্যয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ও ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এই রেলপথটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টার্ব রূপসা নদীর ওপর মূল রেল সেতুর কাজ সম্পন্ন করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত। এটি সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দরে আরো গতি সঞ্চার হবে। কম খরচে ভারত, নেপাল ও ভুটানে মালামাল পরিবহন সহজ হবে। বিভিন্ন স্থান থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সহজে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে পারবেন।
রূপসা রেল সেতুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশন ম্যানেজার সুব্রত জানা বলেন, শত শত শ্রমিক আর প্রকৌশলীর অক্লান্ত পরিশ্রমে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে রূপসা সেতুর মূল নির্মাণ কাজ।
তিনি বলেন, সিঙ্গেল ব্রডগেজের এ সেতুর দৈর্ঘ্য পাঁচ কিলোমিটার। ৮৩৬টি পাইলের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে ৬৩৭টির। পিয়ার ক্যাপ ১৩২টির মধ্যে ২১টির কাজ শেষ হয়েছে। ১৪২টি স্প্যানের মধ্যে দুটি বসানো হয়েছে। পিলার ১৩২টির মধ্যে সাতটি বসানো হয়েছে। পিলার ক্যাপ হয়েছে ১৩২টির মধ্যে ছয়টি।