যাত্রার সুদিন ফিরছে

যাত্রা বাঙালি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এক সময় বাংলাদেশের গ্রাম ও শহরে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল যাত্রা। লোকনাট্যের এ জনপ্রিয় শাখাটির মাধ্যমে ঐতিহাসিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি উঠে আসে সামাজিক নানা অসংগতি ও অনিয়মের প্রতিচিত্র। গত শতকের নব্বই দশক পর্যন্ত যাত্রা একটি জনপ্রিয় শিল্প মাধ্যম হিসেবে এ দেশের দর্শকমহলে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন কারণে যাত্রাশিল্প তার অবস্থান হারিয়েছে।

তবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি যাত্রাশিল্পের সুদিন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ‘যাত্রা শিল্পের নবযাত্রা’ স্লোগান ধারণ করে ‘যাত্রাশিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০১২’ প্রণয়ন করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে শিল্পকলা একাডেমিতে যাত্রাদল নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে, ইতোমধ্যে ১০৬টি যাত্রাদলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। যাত্রাদল নিবন্ধনের লক্ষ্যে গত ১২ ও ১৩ নভেম্বর দশম যাত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ইতোমধ্যে ‘ঈশা খাঁ’ শিরোনামে একটি প্রত্নযাত্রা নির্মাণ এবং মুনীর চৌধুরী রচিত ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটককে যাত্রাপালায় রূপান্তর করে মঞ্চায়নের ব্যবস্থা করেছে। কেন্দ্রীয়ভাবে ৫টি যাত্রাপালার নির্মাণ কার্যক্রম চলছে।

এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ৬৪ জেলায় আরও ৬৪টি দেশীয় যাত্রাপালা নির্মিত হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে ৬৪টি দেশীয় যাত্রাপালা নির্বাচন করে জেলায় পাঠানো হয়েছে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে পালাগুলোর নির্মাণ ও মঞ্চায়ন কার্যক্রম শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া যাত্রাশিল্পের উন্নয়নে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনীসহ বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে শিল্পকলা একাডেমি।

জানা গেছে, নোয়াখালীতে প্রস্তুতি চলছে পালাকার আবুল কাশেমের ‘পিতৃহত্যার প্রতিশোধ’, সিলেটে চলছে পালাকার আব্দুস ছামাদের ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, গোপালগঞ্জে ‘গুনাইবিবি’, পিরোজপুরে রাধাকান্ত দাসের ‘এ কালের মীরজাফর’, নওগাঁয় জসীম উদ্দীনের ‘মধুমালা’ ইত্যাদি। এমনিভাবে ৬৪ জেলাতেই বর্তমানে যাত্রাপালার রিহার্সাল চলছে। যা খুব দ্রুতই মঞ্চস্থ করা হবে।

শিল্প-সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ইতিবাচক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে যাত্রাশিল্প হারানো গৌরব   ফিরে পাবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। তিনি বলেন, যাত্রাপালা আমাদের দেশে সুদূর অতীতে সুরুচিপূর্ণ ও আকর্ষণীয় বিনোদন হিসেবে দর্শককে বিপুল আনন্দ প্রদান করত এবং বিনোদনের অন্যতম শিল্পমাধ্যম ছিল এটি। যাত্রাপালার পুরনো সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ও যাত্রাশিল্পেকে দর্শকনন্দিত করার জন্য শিল্পকলা একাডেমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।