কালাইয়ে আলুর ফলনে স্বস্তিতে চাষি

আলুচাষের উপযোগী ও ঊর্বর মাটি হওয়ায় জয়পুরহাটের কালাই উপজেলাতে এবার আলু চাষ অনেক ভালো হয়েছে। বীজ, সার ও কীটনাশক ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহসহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলাতে আলুর বাম্পার ফলন পেতে যাচ্ছে কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে- আলুর ক্ষেতে রোপণকৃত আলুর চারাগুলো বড় হয়ে বিস্তীর্ণ মাঠগুলো এখন সবুজে ছেয়ে গেছে। গত বছরে আলুর দাম ভালো পাওয়ায় চলতি মৌসুমে কৃষকেরা আলু চাষ অনেক বেশি করেছেন। তাই বেশি লাভের আসায় এবার এই এলাকার অনেক কৃষকেরা বেশি করে আলু রোপণ করেছেন। আলুর ক্ষেতে আলু ভালো রাখতে কৃষকেরা নিয়মিতভাবে পরিচর্যাসহ ক্ষেতের বিভিন্ন কাজে তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। ইতোমধ্যে আগাম জাতের আলু উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে। নতুন আলুর ফলনও ভালো মিলছে এবং দামও ভালো পাচ্ছে উপজেলার কৃষকেরা। বর্তমান আলুর বাজারে আলুর ভালো দাম পাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন বলে স্থানীয় আলু চাষিরা জানান।

সরেজমিনে উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের আলু চাষি জাহাঙ্গীর, ওসমানগুণী এবং উদয়পুর ইউনিয়নের সাইদুল, খালেক; পুনট ইউনিয়নের রাইহান, রশীদ, জিন্দারপুর ইউনিয়নের জিয়া, কাদের ও আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বাকি, নাজিমসহ অনেকেই জানান, অন্যান্য ফসলের চেয়ে এই এলাকায় আলু উত্পাদন বেশি পরিমাণ হওয়ায় কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় ফসল আলু। গত বছরে তারা আলুর দাম অনেক ভালো পেয়ে ছিলেন। ইতোমধ্যে তারা আগাম জাতের আলু উত্তোলন শুরু করেছেন।

কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, কালাই পৌরসভাসহ উপজেলার মাত্রাই, উদয়পুর, পুনট, জিন্দারপুর ও আহম্মেদাবাদ এই ৫টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ১২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উফশী জাতের আলু চাষ হয়েছে ১১ হাজার ১০৫ হেক্টর এবং স্থানীয় পাকড়ি জাতের আলু চাষ হয়েছে ১ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে। উফশী জাতের আলু চাষের মধ্যে রয়েছে-গ্রানুলা, মিউজিকা, ডায়মন্ড, এস্টোরিক্স, কার্ডিনাল, রোজেটা, ক্যারেজ, রোমানা; আর পাকড়ি জাতের আলু চাষের মধ্যে রয়েছে তেল-পাকড়ি, পাহাড়ি-পাকড়ি, বট-পাকড়ি ও ফাটা-পাকড়ি। এবারের বীজ, সার সরবরাহসহ আবহাওয়া অনুকূলে ও রোগ-বালাই কম থাকায় উপজেলাতে আলুর বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আশা রাখি, এবার উপজেলাতে আলু উত্পাদিত হবে প্রায় ৩ লাখ মে:টন।