করোনা ভাইরাসের মহামারিতে সীমিত পরিসরে পালন করা হচ্ছে এবারের মুসলিম উম্মার পবিত্র হজ। চলতি বছরে হজের ওপর নানা বিধিনিষেধের কারণে মক্কা ও মদিনার অর্থনীতিতে ধস নেমেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।
বিবিসির খবরে বলা হয়, হজের বিধি নিষেধের কারণে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা শহরের অর্থনীতিতেও বিরাট শূন্যতা দেখা দিয়েছে। হজ যাত্রীদের আগমনকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর এই দুটি শহরে শত শত কোটি ডলার সমপরিমাণের ব্যবসা-বাণিজ্য হয়।
করাচির ট্রাভেল এজেন্সি 'চিপ হজ এন্ড ওমরা ডীলস'-এর মালিক শাহজাদ তাজ জানান, তার ব্যবসা এবারের ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।
সৌদি রাজধানী রিয়াদের আল-রাজি ক্যাপিটাল নামে একটি আর্থিক সেবাসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের গবেষণা বিভাগের প্রধান মাজেন আল-সুদাইরি জানান, হজের আয়োজন সীমিত আকারে হওয়ায় সৌদি সরকারের অনেক টাকা বেঁচে যাবে।
তিনি বলেন, এটা ঠিক যে হজের আয়োজন করতে প্রতি বছর সৌদি সরকারের যে অর্থ ব্যয় হয় তার অনেকটাই এবার বেঁচে যাবে এ বছর। কিন্তু মক্কা এবং মদিনা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের যে ক্ষতি হবে তার পরিমাণ হতে পারে ৯০০ থেকে ১২০০ কোটি ডলার পর্যন্ত।
আল-সুদাইরি আরও বলেন, এ ব্যাপারে সৌদি সরকার কিছু সহায়তা দিচ্ছে। সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সাহায্য করার চেষ্টা করছে, তাদের ঋণের মেয়াদ দু-তিন মাস পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারতের বন্যাদুর্গতের সহায়তায় ১ লাখ ইউরো ঘোষণা
তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক আলেক্সাণ্ডার পারজেসি বলেন, সৌদি আরবের জাতীয় আয়ের ৮০ শতাংশই আসে তেল থেকে। তবে তেলের দাম কমে যাওয়ায় তারা অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনবার উদ্যোগসহ আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি সরকার।
কিন্তু তা সত্ত্বেও সৌদি অর্থনীতি প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে বলে তারা মনে করেন।
ইত্তেফাক/আরআই