আবার মিয়ানমার যাওয়ার প্রস্তুতি মেয়েদের

ছোট অস্ত্র নিয়ে বড় যুদ্ধে যাওয়ার পরিস্থিতিটা কেমন হতে পারে তা বুঝতে পারছেন নারী ফুটবল দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন। মিয়ানমার থেকে দেশে ফিরেছে জাতীয় মহিলা ফুটবল দল। গতকাল বিকেলে ঢাকায় পৌঁছে ছোটন জানিয়েছেন তার দল আর অন্য দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য কোথায়। বয়স আর শারীরিক সামর্থ্য বাংলার মেয়েদের সঙ্গে ভারত মিয়ানমার কিংবা নেপালের খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যবধান বুঝিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের মেয়েরা ফুটবল খেলছে ১০ বছর ধরে। আর ভারত ৫০ বছর ধরে নারী ফুটবল খেলছে বলে জানালেন কোচ ছোটন। বয়সটা অনেক বেশি পার্থক্য। ছোটন বললেন আমাদের দলে অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের খেলোয়াড় রয়েছেন আটজন, অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলোয়াড় রয়েছেন ১১ জন এবং একমাত্র সিনিয়র খেলোয়াড় সাবিনা খাতুন। অভিজ্ঞতা এবং বয়স সব দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও একার পক্ষে লড়াই করার মত নয়।

টোকিও অলিম্পিক নারী ফুটবল বাছাইয়ে মিয়ানমারের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ, ভারতের কাছে ৭-১ গোলে হেরেছে এবং নেপালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল গতকাল ঢাকায় ফিরেছে। কোচ ছোটন মোটেও অখুশি নয়। প্রতিপক্ষ দলগুলোর শক্তি এবং সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করলে প্রতিপক্ষরাই এগিয়ে থাকবে। ছোটন বললেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা আগেও খেলেনি। তারা অনেক শক্তিশালী। ভারতের সঙ্গে আগে খেললেও ভারতের সিনিয়র দল অনেক শক্তিশালী। তাদের এমন খেলোয়াড়রাও রয়েছেন যার বয়স ৩৫। আর আমাদের মনিকার বয়স ১৬। নেপালও কম শক্তিশালী নয়। নেপাল ড্র করেছে মিয়ানমার এবং ভারতের বিপক্ষে। আপনাকে বাস্তবতা বুঝতে হবে।’ ছোটন রাখঢাক না করে বললেন, ‘আমরা হতাশ নই। আমাদের এই খেলোয়াড়রা আরো কয়েক বছর পর আরও অভিজ্ঞ হবে। এখন যেমন বড়দের বিপক্ষে খেলতে গেলে বুদ্ধির কাছে হেরে যায়। বড়রা শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে। অনেক বেশি চতুর। আমাদের খেলোয়াড়রা এখনও এসব বুঝে উঠতে পারেনি।’

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের গ্রুপ বাছাইয়ে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় পর্বের খেলায় অংশগ্রহণ করতে মিয়ানমার যাবে ফেব্রুয়ারিতে। দ্বিতীয় পর্বের বাছাইয়ে মিয়ানমার, চীন, ফিলিপাইন এবং বাংলাদেশ খেলবে এক গ্রুপে। অন্য গ্রুপের খেলা লাওসে হবে। সেখানে লাওস, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম, ইরান লড়াই করবে। দুই গ্রুপ হতে চারটি দল চূড়ান্ত পর্বে উঠবে। খেলা হবে থাইল্যান্ডে, সেপ্টেম্বরে। এই চার দলের সঙ্গে যুক্ত হবে জাপান, দুই কোরিয়া এবং স্বাগতিক থাইল্যান্ড।