আফ্রিদি ঝড়ে কুমিল্লার জয়

ম্যাচটি হতে পারতো স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাটিং শৈলীর প্রদর্শনী। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি দুই অস্ট্রেলিয়ান। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল তাদের অভিষেকের মঞ্চে সব আলো কেড়ে নিলেন শহীদ আফ্রিদি। পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়কের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে জয়ে বিপিএল শুরু করেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় ২৫ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন আফ্রিদি।

গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সকে চার উইকেটে পরাজিত করেছে কুমিল্লা। মিরপুরের মন্থর পিচে প্রথমে ব্যাট করে আট উইকেটে ১২৭ রানের পুঁজি গড়েছিল সিলেট। জবাবে ১৯.৫ ওভারে ছয় উইকেটে ১৩০ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে কুমিল্লা। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দলের জয়ের নায়ক আফ্রিদি ম্যাচ সেরা হন।

শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন থাকলেও ১২৮ রানের টার্গেট পাড়ি দেয়া সহজ কর্ম ছিল না কুমিল্লার জন্য। বিশেষ করে মিরপুরের উইকেটে। ২১ রানেই এভিন লুইস (৫), ইমরুল কায়েসের (০) উইকেট হারায় দলটি। তামিম ইকবালের সঙ্গে স্মিথের জুটিতে আসে ৩০ রান। কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরার আগে স্মিথ ১৬ রান করেন। ভালো শুরুর পরও উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি শোয়েব মালিক (১৩)। ৫ রান করে লামিচানের বলে বোল্ড হন এনামুল হক বিজয়। ১৭তম ওভারে আফ্রিদির সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে তামিম রান আউট হন। ৯৭ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল কুমিল্লা। একপ্রান্ত আগলে তামিম খেলেছিলেন ৩৫ রানের মূল্যবান ইনিংস।

তামিমের বিদায়ের পর কুমিল্লাকে বাকি পথ টেনে নিয়ে গেছেন আফ্রিদি একাই। শেষ ১৮ বলে ২৭ রানের সমীকরণটা পাড়ি দিয়েছে কুমিল্লা এই পাঠানের ব্যাটেই। তাসকিনের করা ১৮তম ওভারে তুলেছেন ১৫ রান। পরের ওভারে আসে আট রান। শেষ ছয় বলে দরকার ছিল চার রান। চার বলে দুটি সিঙ্গেল নেন সাইফউদ্দিন ও আফ্রিদি। পরে পঞ্চম বলে ফাইন লেগ দিয়ে মারা দর্শনীয় চারে কুমিল্লাকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ৩৮ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। সিলেটের আল-আমিন হোসেন, লামিচানে দুটি করে ও ইরফান একটি উইকেট নেন।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করা সিলেট ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে লিটন দাসের (১) উইকেট হারায়। চতুর্থ ওভারে মেহেদীকে তিনটি চার মেরেছিলেন অধিনায়ক ওয়ার্নার। কিন্তু পরের ওভারেই তৌহিদ হূদয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হন ওয়ার্নার (১৪)। দুজনই একপ্রান্তে চলে গিয়েছিলেন। সুযোগ থাকলেও তরুণ-নবাগত তৌহিদ হূদয় নিজের উইকেট ত্যাগের পথে হাঁটেননি। অবশ্য উইকেটে থেকে বিপিএল অভিষেকেই কোনো হাতি-ঘোড়া মারেননি তিনি। বরং দলের রানের গতি শ্লথ করে দিয়েছিলেন। ২৪ বলে আট রান করে ফিরেন বাংলাদেশ যুব দলের অধিনায়ক।

আফিফ হোসেন ১৯, সাব্বির রহমান ৭ রান করে ফিরলে ৫৬ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে সিলেট। ষষ্ঠ উইকেটে নিকোলাস পুরান-অলক কাপালির ৫৫ রানের জুটিতে লড়াইয়ের পুঁজি পায় সিলেট। পুরান ২৬ বলে ৪১ রান করেন। অলক কাপালি ১৯ রান করে আউট হন। কুমিল্লার পক্ষে সাইফউদ্দিন, শহীদ, মেহেদী হাসান দুটি করে এবং শহীদ আফ্রিদি একটি উইকেট পান।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর

সিলেট সিক্সার্স: ২০ ওভারে ১২৭/৮

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ১৯.৫ ওভারে ১৩০/৬

ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স চার উইকেটে জয়