স্পোর্টস রিপোর্টার
তার আদর্শ হলেন ক্রিস গেইল।
গেইলের সাথে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেনও তিনি। সেখানে নিশ্চয়ই আদর্শ ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে কিছু টিপস নিয়েছেন। কিন্তু ওই টিপস নেওয়ার আগেই গেইলের পাশে নাম তুলে ফেলেছেন। মাত্র ১২ বলে ফিফটি করে যুগ্মভাবে গেইল ও যুবরাজের সাথে বিশ্বের দ্রুততম টি-টোয়েন্টি ফিফটির মালিক হজরতউল্লাহ জাজাই।
জাজাইয়ের মারকুটে ব্যাটিংয়ের ইতিহাস এখানেই শেষ নয়। এক ওভারে ছয়টি ছক্কা মারার রেকর্ডও আছে তার। মূলত বোলিং নির্ভর আফগানিস্তানের নতুন এক দিগন্ত মনে করা হয় মারকুটে ব্যাটসম্যান এই জাজাইকে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ খেলতে ঢাকায় এসে প্রথম ম্যাচেই দেখিয়ে দিলেন কেনো তাকে ‘আফগান গেইল’ বলা হয়। ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে ৪১ বলে চারটি চার ও সাতটি ছক্কায় ৭৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েছেন এবং নিজে ম্যাচসেরা হয়েছেন। প্রথম দিনেই নিজের নামটা লিখিয়ে ফেলেছেন জাজাই। ম্যাচ শেষে অবশ্য বেশ ছাচাছোলা ভঙ্গিতে বলে দিলেন, তার এই ছক্কা মারতে পারার বিস্ময়কর ক্ষমতার কোনো গোপন রহস্য নেই। তার বিবেচনায় এর পেছনের কারণ একটাই—অনুশীলনে তিনি যতো বেশি সম্ভব ছক্কা মারেন। প্রথম ম্যাচে তাকে ছক্কা মারার এই স্বাধীনতা দিয়েই মাঠে নামানো হয়েছিলো বলে বলছিলেন জাজাই, ‘আমার কোনো গোপন রহস্য নেই। আমি স্রেফ নিজের ওপর এবং নিজের শটের ওপর বিশ্বাস রাখি। আমি যখন অনুশীলন করি, সবসময় চেষ্টা করি আমি যেনো ছক্কা মারতে পারি। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা। অধিনায়ক ও কোচ আমাদের তাদের পরিকল্পনা জানিয়েছেন এবং আমি স্রেফ ওই পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি। তারা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। আর এ জন্যই আমি ভালো করতে পেরেছি।’
একদিকে জাজাই এরকম রান পেয়েছেন। কিন্তু অন্যদিকে এখনও বিপিএলে রান পেতে ঢুকছেন বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান। আফগান এই তারকা বলছিলেন, এই উইকেট রান করার জন্য বেশ কঠিন। তার ফর্মের কারণেই উইকেট সমস্যা হয়নি বলে বলছিলেন, ‘উইকেট খুব সহজ ছিলো না। এটা কঠিন ছিলো। কিন্তু আমি যেহেতু ভালো ফর্মে আছি, তাই আমি ছক্কাগুলো মারতে পেরেছি।’
জাজাইয়ের হিসেব সোজা—বল নাগালে থাকলে সেটাকে পিটিয়ে ছক্কা বানাও। এই মন্ত্রটাও তিনি শিখেছেন গেইলের ব্যাটিং দেখে, ‘আমার আদর্শ হলো ক্রিস গেইল। আমি আগেও বলেছি, আমি স্রেফ নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই। যদি এটা (বল) আমার সীমানার মধ্যে থাকে, তাহলে আমি অনেক এলাকা দিয়েই ছক্কা মারতে পারি।’
ফ্রাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত মুখ হলেও এখনও জাতীয় দলে, বিশেষ করে ওয়ানডে স্কোয়াডে নিজেকে শক্ত করে তুলতে পারেননি। বিশ্বকাপ এখনও নিশ্চিত নয়। তাই জাজাই বলছিলেন, তিনি বিশ্বকাপের আগেই নিজেকে ওয়ানডে খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলতে চান, ‘আমি নিজেকে ওয়ানডে দলের জন্য তৈরি করে তুলতে চাচ্ছি। আমি চেষ্টা করছি বিশ্বকাপের দলে নির্বাচিত হওয়ার।’