পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করছেন ৪ করোনাযোদ্ধা

দিন নেই, রাত নেই, নেই রোদ, বৃষ্টি, ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যখনই খবর পাচ্ছেন ছুটে চলেছেন করোনায় আক্রান্তদের বাসা বাড়ি। পেশাদারিত্বের সঙ্গে করোনা মোকাবেলায় জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়ে দিন রাত একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত নিরলস ভাবে ছুটে চলে মানবিক কাজ করছেন প্রশাসনের ৪ করোনা যোদ্ধা।

প্রশাসনের এই চার কর্মকর্তা হলেন মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন, মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সায়েদুর রহমান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মাকসুদা খানম।

চার কর্মকর্তা এলাকায় মাইকিং করে বলছেন করোনাকালীন দুর্যোগের সময় আপনারা নিরাপদে নিজ নিজ ঘরে থাকুন, আমরা আপনাদের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে খাবার বাড়ি পৌঁছে দিব। নিজে নিরাপদ থাকুন, পরিবারকে নিরাপদ রাখুন। করোনার মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে প্রাকৃতিক বন্যা। তারপরও তারা বসে নেই। দিন রাত ছুটে চলেছেন এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত।

আজ সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক স্যারের দিক নির্দেশনায় মির্জাপুরকে করোনা মোকাবেলায় ঢেলে সাজানো হয়েছে। সকলের  সহযোগিতা করোনা ভাইরাসকে মোকাবেলার জন্য কাজ করা হচ্ছে। পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নসহ প্রতিটি এলাকায় জনগণকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলার জন্য গণজাগরন সৃষ্টি করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়া, ঔষধপত্র দেওয়া, লগডাউনে থাকা পরিবারের সদস্যদের খাবার বিতরণ, করোনায় আক্রান্তদের জন্য আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা, শিশু খাদ্য বিতরণ, কর্মহীন ও দরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা, ভিআইপিদের প্রটোকল দেওয়া, নিয়মিত অফিসের কাজ করাসহ করোনার মত মহামারী দুর্যোগের সময় ঝুঁকি মাথায় নিয়ে দিনরাত কাজ করা হচ্ছে। দেশে করোনা ভাইরাস দেখা দেওয়ার পর থেকেই পরিবারের সদ্যদের জন্য এক দিনের জন্যও ছুটি কাটাতে পারেনি মির্জাপুরের কোন কর্মকর্তা। আমরা চেষ্টা করছি জনগণের পাশে থেকে সর্বোচ্চ সেবা ও সহযোগিতা করা। করোনার মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে প্রাকৃতিক বন্যা।

মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার মি. সঞ্জিত কুমার রায়ের নির্দেশনায় মির্জাপুর থানা ও হাইওয়ে পুলিশের প্রতিটি পুলিশ সদস্য নিরলস ভাবে প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। কাজ করতে গিয়ে মির্জাপুরে মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার এবং মির্জাপুর থানার অর্ধশত পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যে আমাদের পুলিশ বাহিনীর করোনা ভাইরাসকে পরাজিত করার জন্য লিফলেট বিতরণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ, খাদ্য বিতরণসহ জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ বাহিনী। যতক্ষণ জীবন থাকবে ততক্ষণ জনগণকে এই দুর্যোগের সময়ে সর্বাত্বক সহযোগিতা করা হবে বলে এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, আমরা দিন বুঝিনা, রাত বুঝিনা, আমরা চাই এলাকার জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া। জেলা সিভিল সার্জনের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় করোনা মোকাবেলার জন্য হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রতিটি সদস্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। খবর আসা মাত্রই স্বাস্থ্য কর্মীরা লোকজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনার নমুনা সংগ্রহ করছেন। গত মার্চ মাস থেকে আজ ৩ আগস্ট পর্যন্ত পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮০ জন। করোনায় মারা গেছেন ৭ জন। যারা এখনও আক্রান্ত তারা হোম কোয়ারিন্টাইনে রয়েছেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, জনগণের পাশে থেকে সেবা করার সুযোগ এসেছে। করোনার ভয়ে এখন আমাদের বসে থাকলে চলবে না। জনগণকে নিরাপত্তা দিতে হবে। সেই লক্ষ ও উদ্যেশ্য নিয়েই আমরা মাঠে কাজ করছি। যতক্ষণ জীবন আছে ততক্ষণ জনগণকে করোনা মোকাবেলায় সেবা দিয়ে যাব।

ইত্তেফাক/আরকেজি