বন্যাকবলিত দুর্যোগের মধ্যেও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছে কুমুদিনী হাসপাতাল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালসহ কুমুদিনী কমপ্লেক্স এখন বন্যা কবলিত। বন্যা কবলিত এই দুর্যোগের মধ্যেও কর্তৃপক্ষ তাদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছে। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) কুমুদিনী কমপ্লেক্সে ঘুরে দেখা গেছে চারপাশে বন্যার পানি থৈ থৈ করছে। এই দুর্যোগের মধ্যেও চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে রোগীদের নানাভাবে চিকিৎসাসেবার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায় জানান, কুমুদিনী হাসপাতালের সামনের সড়কে প্রায় ৩ ফুট উচ্চতায় পানি উঠে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্লাবিত হয়েছে। গত কয়েক বছরে কমপ্লেক্সের বাইরে অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে পানি নিষ্কাশন আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতাল ভবনের চারপাশ, ভারতেশ্বরী হোমসের সামনে ও ভেতরে পানি প্রবেশ করেছে। কমপ্লেক্সটির আবাসিক ভবনসহ সকল স্থাপনার নীচতলা জলমগ্ন। কমপ্লেক্সের ভেতরে ডাক্তার ও নার্সরা নৌকা দিয়ে কর্মস্থলে যাতায়াত করছেন। হাসপাতালের ভেতরে রোগীদের সাবলীল চলাচলের সুবিধার জন্য কাঠের বেঞ্চ জোড়া লাগিয়ে সেতু করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানের ভয়াবহ বন্যার সতর্কতামূলক পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসাবে হাসপাতালের নীচ তলায় অবস্থিত আইসিইউ ইউনিট ও কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট সম্পূর্ণ কার্যকর অবস্থায় দোতালায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সিটি স্ক্যান মেশিন, ডিজিটাল এক্সরে মেশিনসহ সমস্ত মূল্যবান যন্ত্রপাতি নিরাপদ স্থান উচ্চতায় বসানো হয়েছে।

কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশন) অনিমেশ ভৌমিক লিটন জানান, গত মার্চ থেকে করোনা মোকাবিলার জন্য কুমুদিনী হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডাক্তার, নার্স ও সেবাকর্মীদের পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। করোনাকালীন পস্থিতিতে ডাক্তার, নার্স ও সেবাকর্মীগণ ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে চিকিৎসাসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনা জাতীয় উপসর্গ আছে এমন রোগীর জন্য পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: ‘ইউনিসের ব্যাটিং কোচ হবার যোগ্যতা নেই’

বন্যা কুমুদিনী কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সেবা ইউনিটসহ ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ এবং রাস্তাঘাটের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজিব প্রসাদ বলেন, এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও কুমুদিনী হাসপাতাল তার কার্যক্রম সচল রেখেছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, ইনপেসেন্ট, ইমারজেন্সি, অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউসহ সব সেবাই সচল রয়েছে। অদ্যাবধি বন্যাপূর্ব করোনা দুর্যোগে মানবিক সহায়তা হিসাবে ট্রাস্টের নারায়ণগঞ্জ ও মির্জাপুর কমপ্লেক্সের সংলগ্ন এলাকার অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে ত্রাণ প্রদান করা হয়েছে এবং উক্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে । কুমুদিনী ও তার অঙ্গপ্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিষ্ঠাতা রায় বাহাদুর রণদা প্রসাদ সাহার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা সেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

ইত্তেফাক/এএএম