গাইবান্ধায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় জনদুর্ভোগ চরমে 

গাইবান্ধায় সবগুলো নদীর পানি কমছে তবে এখনো ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও বন্যা উপদ্রুত এলাকায় মানুষের ঘরবাড়ি থেকে এখনো পানি নেমে যায়নি। ফলে বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় গ্রহণকারী বন্যার্ত লোকজন তাদের গরু ছাগল নিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে পারছে না। 

এদিকে চরাঞ্চলের কাঁচা ঘরবাড়ি দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত থাকায় অধিকাংশ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই বন্যায় মানুষের হাত ও পায়ে চুলকানিসহ নানা ধরণের চর্মরোগও দেখা দিয়েছে। অপরদিকে পানি কমতে থাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, মঙ্গলবার ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১৮ সে.মি. ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি এখনো চূড়ান্ত নিরূপণ করতে পারেনি। তবে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে বলে জানান গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা একেএম ইদ্রিস আলী।

আরো পড়ুন : মফস্বলেও করোনা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে :  রিজভী

তিনি আরও জানান, জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সাদুল্লাপুর, গোবিন্দগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নের ২৬৭টি গ্রামের ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৮৬ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৩৫ হাজার ৫৫১টি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬০০ মে. টন চাল, খয়রাতি সাহায্য হিসেবে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ৪ লাখ টাকা, গো-খাদ্যের ৯ লাখ টাকা বিতরণ করেছে। এছাড়া শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৫০ প্যাকেট।

ইত্তেফাক/ইউবি