নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় পুঁজিবাজার চাঙ্গা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংশয় কেটে যাওয়ায় শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। তাই বাজার এখন চাঙ্গা। ৩০ ডিসেম্বরের পর থেকে দেশের পুঁজিবাজারের সূচক ্ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে দুই পুঁজিবাজারের সূচক পড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনিতেই প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা দ্বিধার মধ্যে থাকেন। এবারও তার ব্যাতিক্রম ছিল না। নির্বাচনকে ঘিরে কি হতে যাচ্ছে সেটা ছিল তাদের বিবেচ্য। কিন্তু নির্বাচন হয়ে যাওয়ায় সে অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর সূচক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে শেষ কর্মদিবসে অর্থাত্ গত ২৭ ডিসেম্বর ডিএসইর সূচক বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ। পয়েন্টের হিসেবে তা ছিল ৩৬। কিন্তু নির্বাচনের পরদিন অর্থাত্ পহেলা জানুয়ারি সূচক বেড়েছে প্রায় ৮০ পয়েন্ট। এর পরের দুই কর্মদিবসেও সূচক বেড়েছে। সূচক বাড়ার সাথে সাথে দুই পুঁজিবাজারে অধিকাংশ শেয়ারের দামও বেড়েছে। গতকাল রবিবার ডিএসইর মূল্য সূচক প্রায় এক’শ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেনও অনেক দিন পর হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন পরবর্তী কোনো সহিংসতা না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরেছে। এছাড়া নতুন বছরে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা তাদের কিছু সঞ্চয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে থাকেন। এর ফলে সূচক বাড়ছে। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। অর্থনীতির বিশ্লেষক এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। অদূর ভবিষ্যতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকলে অর্থনীতি আরো চাঙ্গা হবে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম এখনো কম আছে। এসব শেয়ারের দাম বাড়লে সূচক আরো বাড়বে।

এদিকে সদ্যসমাপ্ত বছরে অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংকের মুনাফা আগের চেয়ে বেড়েছে। এর ফলে গত কয়েকদিনে ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়েছে। সূচক বাড়ার এটিও একটি কারণ।